মোহাম্মদ মুজাহিদ: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামে এক বৃদ্ধের ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমি জবরদখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি, মাছের ঘের কেটে ক্ষতিসাধন এবং পারিবারিক কবরস্থান দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আকবর আলী (৭৪) সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গয়েশপুর মৌজার খতিয়ান নং- ৮৯ ও ৯২-এর অন্তর্ভুক্ত দাগ নং- ৩৫৬, ৩৫৭ ও ৩৫১-এর মোট ২০ শতক জমির বৈধ মালিক তিনি। দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন এবং মালিকানার সকল বৈধ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, একই গ্রামের মেহেদী হাসান, আনারুল ইসলাম, আমিনুর রহমান ও আল-আমিনসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে ঘেরাবেড়া নির্মাণের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশসহ গুরুতর জখমের হুমকি দেন। এমনকি প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানিরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, গয়েশপুর গ্রামের মাঠে অবস্থিত তার একটি মাছের ঘের কেটে প্রায় ৫ হাজার টাকার মাছ পাশের খালে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পৈতৃক কবরস্থান ঘেরাবেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয় এবং পারিবারিক বাঁশঝাড় থেকে পাঁচটি বাঁশ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ইউনুস ও কামাল হোসেনসহ স্থানীয় আরও অনেকের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর আশঙ্কা, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ, রক্তক্ষয়ী ঘটনা কিংবা প্রাণহানির মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. আকবর আলী দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, তার জমি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সাতক্ষীরা সদর থানার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ মাসুদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জমি নিয়ে কোনো পক্ষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধে কোনো ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর, দখল বা হুমকির ঘটনা বরদাশত করা হবে না। কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।