প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১০:৫৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, নারীকে মারধর, স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এক নারী।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালনগর এলাকার বাসিন্দা মোছা. আরিফা খাতুন (৩৯)।
লিখিত বক্তব্যে আরিফা খাতুন বলেন, তিনি ও তাঁর বোন ২০১৩ ও ২০২২ সালে কামালনগর বউবাজারের পাশে মোট ৮ দশমিক ২৫ শতক জমি কেনেন। এরপর থেকে তাঁরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর স্বামী ব্যাংকে চাকরি করায় অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকেন। এই সুযোগে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরিফার অভিযোগ, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে মন্টু, মহাসিন আলী, মুজিবর রহমান, আক্তার হোসেন ওরফে চঞ্চল, আব্দুস সবুরসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে বাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।
আরিফা বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি নির্মাণাধীন বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে ছাদের সেন্টারিংয়ের বাঁশ ও কাঠ ভাঙচুর শুরু করেন। তিনি বাধা দিলে তাঁরা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছাদের রড কেনার জন্য সঙ্গে থাকা ৮০ হাজার টাকা তিনি রফিকুল ইসলাম ওরফে মন্টুর হাতে তুলে দেন। এরপরও হামলা বন্ধ হয়নি। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। রড ও বাঁশ দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরিফাকে রক্ষা করতে তাঁর ভাই মনিরুজ্জামান এগিয়ে এলে তাঁকেও রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে মারধর, গলায় পা দিয়ে চেপে ধরা এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও করেন আরিফা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁর গলা থেকে এক ভরি ওজনের সোনার চেইন ও কানে থাকা আট আনা ওজনের দুল নিয়ে যায়। পরে হাত-পা বেঁধে ও মুখ চেপে ধরে রাখা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা চলে যাওয়ার সময় এক সপ্তাহের মধ্যে আরও ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা না দিলে তাঁকে, তাঁর মা ও সন্তানকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন আরিফা।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আরিফা ও তাঁর ভাইকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আরিফার দাবি, তাঁর মেরুদণ্ডে আঘাত লাগায় এক্স-রে এবং মাথায় আঘাতের কারণে ব্রেনের সিটি স্ক্যান করানো হয়।
চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তিনি সাতক্ষীরার আমলি ১ নম্বর আদালতে মামলা করেন। মামলার আরজির তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
আরিফা খাতুন বলেন, মামলা করার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁদের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। এতে তিনি ও তাঁর সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আইন অনুযায়ী শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।