প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৪, ২০২৬, ৫:৩৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৪, ২০২৬, ২:২২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় এক বন্ধুর ছিনতাইয়ের কবলে আরেক বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বাবুলিয়া এলাকায় এক বন্ধুর ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে সর্বশো খুইয়েছেন মো. তাজু আহমেদ নামে এক যুবক। বর্তমানে তিনি গুরত্বর আহত অবস্তায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন । শুক্রবার (৩জুলাই) ভোর রাতে সদর উপজেলার বাবুলিয়া এলাকার লষ্কর ফিলিং স্টেশানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন তাজু আহমেদ বলেন, হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে হাসানুল বান্না নামে এক যুবকের সাথে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে তার । সেই সুবাদে ২০২৩সালের জুন মাসে, বান্না সনজিৎ সাধু ও আরিফকে সাথে নিয়ে খুলনা জেলার চুকনগর এলাকার আব্দুল্লাহ মটরস নামে একটি শোরুম থেকে ৩লাখ ৪০হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল কিস্তিতে কেনেন তিনি। ওই দিন তিনি সেখানে ১লাখ ২০হাজার টাকা । এরপর বিভিন্ন কিস্তিতে ২লাখ ২০হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে বাকী একলাখ টাকা নিয়ে শোরুমে গেলে আব্দুল্লাহ তার মোটরসাইকেল আটকে রেখে বান্নার কাছে ৮০হাজার টাকা পাবে বলে তিনি দাবী করেন। উপায় না পেয়ে নিজের একলাখ টাকা সহ বান্নার ৮০হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি ।
এরপর বাড়িতে আসলে বন্ধুত্বের সরলতার সুযোগে বান্না কৌশালে মোটরসাইকেল হাতিয়ে নিয়ে নিজেকে মালিক বলে দাবী করে । এরপর বান্নাকে ৫০হাজার টাকা মোটরসাইকেলটি ২লাখ টাকায় কলারোয়ার একজনের কাছে বিক্রি করে জানতে পারেন গাড়িটির কাগজ পত্র ভূয়া ছিল ।গাড়িটি ফেরত এনে বান্না, সনজিত ও জিতুর মধ্যস্তায় শালিশ বিচারের মাধ্যমে গাড়িটি অনত্র বিক্রি করে দেন । ওই সময় বন্ধু বান্নার সাথে মনমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এর ছয়মাস পরে আব্দুল্লাহ মটরস থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা চেক ডিজনার করে তাকে নোটিশ পাঠায়। ওই সময় বন্ধু বান্নার সাথে ৫০টাকা বিনিময়ে মিমাংশার কথা হয় তার ।পরে তার আব্বা আমিনুর রহমান নগদ দশ হাজার টাকা দিয়ে আসে। পরে তিনি ও বন্ধু বান্না মিলে ৪০হাজার টাকা আব্দুল্লাহকে দিয়ে আসলে তিনি মামলা মিমাংশা করার জন্য টালবাহানা করতে থাকে।পরে বান্নার মাধ্যম দিয়ে পুনরায় ২০হাজার টাকা দাবী করে। পরে মান্নার মাধ্যমে ২০হাজার টাকা দিয়ে আব্দুল্লাকে পাঠান।
কিন্তু চতুর আব্দুল্লাহ ফের ৫০হাজার টাকা দাবী করে।এক পর্যায়ে ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে রফাদফা করি। এরপর বাড়ি ফেরার পথে তাকে চুকনগরে আটকে রেখে আব্দুল্লাহ কয়েকজন মাদকাশক্ত ব্যাক্তি তার কাছ এক লাখ ১৬হাজার মূল্যের আই ফোন ছিনিয়ে নেয়।এই ঘটনায় তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা করেছেন ইতিমধ্যে ।
তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার জেরে আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি তার নতুন মোটরসাইকেলটি বিক্রির উদ্যেশে মেহেরপুর আলম ডাঙ্গার উদ্দেশ্যে বের হন। পথিমধ্যে লঙ্কর ফিলিং স্টেশান থেকে তেল নিয়ে বের হওয়ার সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বান্না ও ইসরাফিল ছোট সহ কয়েকজন আমাকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায়। ওই সময় অজ্ঞাত নামা তিনজন ভাড়াটে সন্ত্রাসী শিমুল ও সহ দুই সহযোগি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বৈকারী সীমন্ত এলাকাসহ চারটি পয়েন্টে নিয়ে বাশের লাঠি দিয়ে বেধরড়ক মারধোর করে।এরপর বান্না শিমুল ও অজ্ঞানামা একজন যুবক তাকে পিস্তল নিয়ে হত্যার হুমকি সহ বান্না ও শিমুল ৫লাখ টাকা দাবি করতে থাকে । টাকা দিতে না পারায় তারা তার কাছে ৪লাখ ৭৫হাজার টাকা মূল্যের সুজিকি জি এফ বাইক ছিনিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাদা স্টাম্পে সাক্ষর করে নেয়।

এরপর সাতক্ষীরার খালধারের একটি পুরাতন শোরুমের মালিককে ঘটনাস্থলে ডেকে বিক্রি করে দেয়।এরপর শো রুম মালিকরা তাকে শিবপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলায় ফেলে রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের স্বজনরা উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।এ ঘটনায় বিচার দাবী করে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসানুল বান্না পলাতক থাকার তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্তকর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে।এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
https://satnadee.com/