মোকারম বিল্লাহ : সাতক্ষীরার ৩নং বৈকারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মসলউদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকা জুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম, মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের মাধ্যমে অঢেল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। গেল ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও এই প্রভাবশালী আ'লীগ নেতা বহাল তবিয়তে তার ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন, যার পেছনে শক্তিশালী কোনো মহলের মদদ বা "শেলেটার" রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আ'লীগ নেতা মসলউদ্দিন অতীতে সরাসরি সীমান্ত চোরাচালানের (স্মাগলিং) সাথে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানেও এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। কেবল তিনি নিজেই নন, তার পুরো পরিবারই জড়িয়ে পড়েছে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে। তার ভাই ও ভাইপোরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের বিশাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা বিচারাধীন। এমনকি মাদক চোরাচালানের মামলায় তার স্ত্রীও ইতিপূর্বে জেল খেটেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কলারোয়ার কাথুন্ডা বাজারে মসলউদ্দিনের একটি গোপন গোডাউন রয়েছে, যা তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অবৈধ চোরাচালান ও মাদকের প্রধান আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করেন।
এদিকে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নতুন সারের ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন ভিত্তিক ডিলারশিপ প্রদান করা হবে। এই সুযোগে আওয়ামী লীগের এই বিতর্কিত দোসর ও মাদক কারবারি মসলউদ্দিন তার প্রতিষ্ঠান "মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজ"-এর নামে সারের ডিলারশিপ পেতে আবেদন করেছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে ৩নং বৈকারী ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, "কোনো অবস্থাতেই যেন ফ্যাসিবাদের সহযোগী, চিহ্নিত চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে সারের মতো স্পর্শকাতর পণ্যের ডিলারশিপ তুলে দেওয়া না হয়।"
বিএনপি নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ চোরাচালানের কালো টাকায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া এই আ'লীগ নেতাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে তার অবৈধ সাম্রাজ্য ও আস্তানা গুড়িয়ে দিয়ে বৈকারী ইউনিয়নকে সন্ত্রাসী ও মাদকমুক্ত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান গ্রামবাসী।