
সাতনদী ডেস্ক : চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন টাইগার পাস রেলওয়ে কলোনি এলাকায় সাংবাদিক মর্জিনা আক্তার বেবীর বাসায় সংঘবদ্ধ হামলা, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম, যিনি অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ :
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মর্জিনা আক্তার বেবী, যিনি দৈনিক টুরিস্ট ও চট্টল চিত্র পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত, অভিযোগ করেন যে দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত অপরাধচক্র তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিল। স্থানীয় পর্যায়ে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মো: জসিম, মো: সবুজ, কন্টাক্টর মনির, শুভ, কালু, মো: আকাশ, মো: শাহিনসহ ১০–১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি টাইগার পাস রেলওয়ে কলোনির ১৬ নম্বর বিল্ডিং এলাকার সামনে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করে। এরপর সাংবাদিক বেবীর বাসার সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং বাসার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ওসি আরিফুল ইসলামের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম প্রশাসনিক ব্যস্ততা সত্ত্বেও বিষয়টি সরাসরি গুরুত্বের সঙ্গে নেন। রাতের বৃষ্টির মধ্যেই তিনি পুলিশের একটি বিশেষ টিমকে অভিযানে নামার নির্দেশ দেন।
ওসি আরিফুল ইসলামের নির্দেশে এসআই সফিক ও এএসআই মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ টাইগার পাস রেলওয়ে কলোনি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াশীল ও সাহসী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকে প্রাথমিকভাবে এজাহার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ওসির বক্তব্য
এ বিষয়ে খুলশী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম চট্টল চিত্র ও দৈনিক টুরিস্ট-কে বলেন,
“সুজন বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। পুলিশ কমিশনার জনাব শওকত আলী মহোদয়ের নির্দেশনায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। সাংবাদিক বেবীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এলাকায় দীর্ঘদিনের আতঙ্ক ও অপরাধচক্র
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টাইগার পাস রেলওয়ে কলোনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘সুজন বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, অবৈধ চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সাংবাদিক বেবীর ওপর হামলাকে তারা সেই দীর্ঘদিনের অপরাধচক্রের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
পূর্ববর্তী সাংবাদিকতা ও প্রতিক্রিয়া
সাংবাদিক মর্জিনা আক্তার বেবী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছেন। তার প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে অপরাধচক্রের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বলে জানা যায়।
এর আগে চট্টল চিত্র মাল্টিমিডিয়া ও সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজেও একই চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকাশের পরও অপরাধচক্র দমে না গিয়ে আরও সংঘবদ্ধ ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর চট্টগ্রামের সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলেছেন, একজন সাংবাদিকের বাসায় এ ধরনের হামলা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হুমকি।
সাংবাদিক নেতারা দ্রুত তদন্ত, হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং সাংবাদিক বেবী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে সাংবাদিক মর্জিনা আক্তার বেবী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।