# শোভাবর্ধনেরে জন্য ৩০ মার্চের সভার সিদ্ধান্ত ক্রমে দেবদারু গাছের অংশ বিশেষ কর্তন করেছি , সুপারিনটেনডেন্ট মো. গেলাম মোস্তফা।

হাবিবুর রহমান: কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সাতক্ষীরায় প্রাইমারি টিচার্স টেনিং ইনস্টিটিউটের অর্ধশতাধিক দেবদারু গাছ কর্তন করা হয়েছে । ১৫ বিঘা জায়গায় অবস্থিত অনাদরে জঙ্গলে পরিনত হয়েছে । প্রতিষ্ঠানটিতে কেনাকাটায়ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে । গত বুধবার সরজমিনে দেখা যায়, তিনফুট বেড়ের প্রায় ৫০ টি দেবদারু গাছের সাতফুট উপর থেকে করাত দিয়ে কর্তন করা হয়েছে । ট্রেনিং এ আসা শিক্ষকদের ব্যাবহারের জন্য পুকুরটি লতাপাতার জঙ্গলে ভরে আছে । ক্যাম্পাসের চারপাশে ঝোপঝাড়-লতাপাতায় জঙ্গলে রুপ নিয়েছে ।তবে কর্তৃপক্ষ সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কিছু ঝা্উগাছ বসিয়েছেন । অভিযোগে জানা যায়, পিটি আই এর সুপারিনটেনডেন্ট মো. গেলাম মোস্তফা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া প্রায় ৫০ টি দেবদারু গাছের সাতফুট উপর থেকে কর্তন করেছেন । মোটাকৃতির দেবদারু গাছগুলো ডালাপালা হারিয়েছে । পুকুরের পাড় সহ পানির উপরে লতাপাতা গাছের বাগান তৈরি হয়েছে। ফলে পানি দুষিত হচ্ছে ।এত করে ট্রেনিং এ আসা শিক্ষকরা ওই পুকুরে গোসল করতে পারছেনা।
গাছ কর্তনের বিষয়ে পিটি আই এর সুপারিনটেনডেন্ট মো. গেলাম মোস্তফা তার সহকর্মীদের নিয়ে এই প্রতিবেদককে সরজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখান। সাতফুট উচু থেকে গাছ কর্তনের বিষয়টি দেখিয়ে তিনি বলেন, সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সাতফুট উচু গাছ থেকে কর্তন করা হয়েছে ।খুব শিগ্রই কর্তনকৃত জায়গায় ডালপালা গজাবে । এতে সৌন্দর্য বর্ধন হবে । সিমেন্টর তৈরি টবে বসানো কিছু ঝাউগাছ দেখিয়ে তিনি বলেন,শুরু করেছি মাত্র । খুব শিগ্রই বহু সংখ্যক ঝাউগাছ বসানো হবে। গাছ কর্তনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিযে তিনি জানান, নাইটগার্ড বলেছিল গাছের কারণে রাতে অন্ধকার দেখা যায় । এত তার ডিউটি করতে অসুভিদা হয় । গত ৩০ মার্চ তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মিটিং এর সিদ্ধান্ত ক্রমে ঝাউগাছ কর্তন করা হয়েছে। তিনি আরো দাবী করেন তারপূর্বের সুপারিনটেন্টডেন্ট একই ভাবে ঝাউগাছ কর্তন করেছিলেন।
অপরদিকে লাইব্রেরিয়ান আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেনাকাটায় জালজালিয়াতি সহ আর্থিক অনিয়ম করার অভিযোগ রয়েছে । প্রতিষ্ঠানটিতে লাইব্রেরিতে বার্ষিক বই কেনার জন্য একটি বাজেট থাকে । এই কেনাকাটায় আমিরুল ইসলাম নয় ছয় করে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন পন্য কেনাকাটা করা হয় । এই কেনাকাটার দ্বায়িক্ত আমিরুল ইসলামের ওপর । অভিযোগ আছে ২০০০ সালে যোগদান করা আমিরুল ইসলাম সুপারিনটেনডেন্ট কে পরিচালনা করেন।
মুলত দূর্নীতির কারবারটি আমিরুল ইসলাম দেখভাল করে ।
সুপারিনটেনডেন্টকে সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ মনে হয়েছে । তার চাকুরি বেশিদিন নেই । সাথে থাকা তার সহকর্মীরা দাবী করেন স্যার নিরেট ভাল মানুষ। অনিয়ম -দূনীতি মুক্ত মানুষ তিনি । আজ বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে সুপারিটেন্টডেন্ডএর সাথে কথা বলে গাছ কর্তনের সিদ্ধান্তের রেজুলেশানের কপি ও তার কয়েকজন সহকর্মীর মোবাইল নাম্বার চাইলেও তিনি ব্যাস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান । তার সহকর্মীদের সাথে কথা বলতে পারলে খবর আরো সমৃদ্ধ হত ।
এদিকে গতকাল বুধবার বিকাল ৫টা ৫৬ মিনিটে এই প্রতিবেদককে মোবোইলে ফোন দেন । এ প্রান্ত থেকে বলা হয় কে বলছেন আপনি । পরিচয় না দিয়ে অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয় একটু কথা বলুন । পরিচয় না পাওয়ার কারণে এই প্রতিবেদক কথা বলতে বিব্রত বোধ করছিলেন । সুপারিনটেনডেন্ট কথা বলার জন্য যখন ফোনটি অন্য কেউকে ধরিয়ে দেন তখন এই প্রতিবেদক আবারো বলেন ,কে বলছেন ভাই । তখন দরাজ কণ্ঠে উত্তর আসে আমি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলছি, তুমি কে বলছো ? এই প্রতিবেদক নাম পরিচয় দিলে হাবিবুল ইসলাম হাবিব কথা বলার অপরাগতা প্রকাশ করে মোবাইল ফোনটি সুপারিনটেন্টডেন্ড এর হাতে দিয়ে দেন । এসময় তিনি কিছু বাক্য ব্যবহার করেন যা খবরে আনা বেমানান ।
এরপর সুপারিনটেনডেন্ট সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে দুই দফায় মোবাইল ফোনে কথা বলেন এই প্রতিবেদকের সাথে ।তিনি ৫টা ৫৬ মিনিটের সময় ঘঠে যাওয়া বিব্রতকর পরিস্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
এই প্রতিবেদক কত সালে কলারোয়া সরকারী কলেজে পড়াশুনা করেছেন তা জানতে চান । প্রস্নের উত্তর দেওয়ার পর সুপারিটেন্টডেন্ড জানান, এই প্রতিবেদকের সিনিয়র তিনি । তিনিও কলারোয়া কলেজে পড়াশুনা করেছেন এবং তার বাড়ি কলারোয়াতে ।পরে বোঝা গেল এই প্রতিবেদকের পাশাপাশি তিনিও কলারোয়া সরকারী কলেজের ছাত্র । এরপর তিনি খবরটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান। প্রতি উত্তরে এউ প্রতিবেদক বলেন,যা সত্য তাই লিখব । কোন অসত্য তথ্য খবরে থাকবেনা যাতে আপনি বিব্রতবোধ করেন। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, ৫টা ৫৬ মিনিটে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ হাবিবুল ইসলাম হাবিব কলারোয়া সরকারী কলেজের ছাত্র। কথা বলতে অপারকতা প্রকাশ করা হাবিবুল ইসলাম হাবিবের পরিচয় তিনি কেন্দ্রীয় বি এনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ।সাবেক এমপি এবং বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ।