হাবিবুর রহমান : সবার প্রিয় নূর ইসলাম ভাই আর নেই ।গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন । মৃত্যুর খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে গনমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে । আজ বাদ জোহর মরহুমের নামাযে জানাজা শহরের সিটি কলেজ সংলগ্ন মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক দৃষ্টিপাতের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। আমৃত্যু তিনি সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করেছেন পত্রিকাটির । এর আগে তিনি ছোটখাটো ব্যাবসা দিয়ে জীবন শুরু করেন। এক পর্য়ায়ে ঢাকা সহ আঞ্চলিক সংবাদ পত্রের এজেন্ট শিপ নেন। নাম দেন ইসলাম ট্রেডার্স। এই ব্যাবসাই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় । অর্থনৈতিক ভাবে তিনি স্বচ্ছল হয়ে ওঠেন। সংবাদ পত্র বেচাকেনার সুবাদে সংবাদপত্র মালিকদের কারো কারো সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এর মধ্যে অন্যতম খুলনার দৈনিক জন্মভুমির প্রায়ত সম্পাদক হুমায়ূন কবির বালু । এক পর্যায়ে জি এম নুর ইসলাম দৈনিক জন্মভুমির সাতক্ষীরা ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পান ।শুরু হয় তার সাংবাদিকতা জীবন। লিখতে লিখতে একটি দৈনিকের ডিক্লিয়ারেশন নেন । একমাত্র কন্যার নামের সাথে মিল রেখে পত্রিকাটির নাম দেন দৈনিক দৃষ্টিপাত । তার কন্যার নাম নওশিন জাহান দৃষ্টি। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ফটো সাংবাদিকতাও করেছেন। জেলা ফটোজানালিষ্ট এ্যাসোসিয়েশানের তিনি সভাপতি ছিলেন । জেলার দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের নিয়ে গঠিত জেলা সংবাদপত্র পরিষদের তিনি সভাপতি ছিলেন । তার সম্পাদিত দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকা সার্কুলেশানে ( জেলা পর্যায়ে) বাংলাদেশের শীর্ষে উঠে আসে । ঘটনাটি সংসদে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী প্রকাশ করেন। দৈনিক দৃষ্টিপাতের বহুল প্রচারের সুবাদে জেলা প্রশাসন , রাজনৈতিক অঙ্গন , বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জি এম নুর ইসলাম এর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। আমৃত তিনি সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। শহরের রসুলপুরের ‘মসজিদে কুবা’র সভাপতি ছিলেন তিনি।
সংবাদ পত্র পরিচালনার পাশাপাশি তিনি অনান্য ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন । এর মধ্যে অন্যতম দৃষ্টি ড্রিংকিং ওয়াটার । এক্ষত্রেও তিনি একমাত্র কন্যার নামে প্রতিষ্ঠানের নাম করণ করেন। তার বড় ছেলে আদম শফিউল্লাহ বর্তমানে দৈনিক দৃষ্টিপাতের বার্তা বিভাগের দায়িত্বে আছে । ছোট ছেলে ওমর ফারুক সেও পত্রিকার গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে আছে। একমাত্র কন্যা নওশিন জাহান দৃষ্টি অনার্স লেবেলে অধ্যয়নরত । কয়েক বছর আগে তার জীবন সঙ্গীনি আনোয়ারা খাতুন প্রয়াত হন । দীর্ঘদিন তিনি ডায়াবেটিস জনিত জটিল রোগে ভুগছিলেন ।সম্প্রতি শহরের ডিজিটাল হাসপাতালে তার একটি জটিল আপারেশন হয় । অপারেশনের পর পনের দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি । বরং তার অবস্থা ক্রমাবন্নতী হতে থাকে । উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয় । পরে বারডেম থেকে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় ।পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটে তাকে ভর্তি করা হয় । বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় । মুহর্তের মধ্যে সেশ্যাল মিডিয়ায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে । সাংবাদিক, রাজনিতিক, সমাজকর্মী সহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ প্রিয় নুর ইসলাম ভাইয়ের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।
পঞ্চাশের দশকে শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া গ্রামে জি. এম. নুর ইসলাম জন্ম গ্রহন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর । এ রিপোর্ট লেখা পর্যান্ত মরহুমের মরদেহ সাতক্ষীরা পৌঁছায়নি । পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে অনুমান রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নিজ বাসভবনের আঙ্গিনায় ভিড়বে মরদেহ বাহী এ্যাম্বুলেন্স । জানাজা শেষে বাসভবন সংলগ্ন পারিবারিক করবস্থানে তাকে দাফন করা হবে ।