
আব্রাহাম লিংকন শ্যামনগর:সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বৃদ্ধ মাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আপন দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন আহত মা মোছাঃ ফজিলা বিবি (৭৩)।মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলার নৈকাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত ফজিলা বিবি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান (৩৫) ও জহুর আলী গাজী (৫০) সম্পর্কে ফজিলা বিবির ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা বড় ছেলে ফজর আলী গাজীর বসতভিটার গাছপালা ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন এবং এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে ফজর আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে একটি বড় গাছ কাটতে শুরু করেন। এ সময় বাধা দিলে ফজর আলীকে মারধর করা হয়। পরে বৃদ্ধা মা ফজিলা বিবি ছেলেদের থামানোর চেষ্টা করলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে ফজিলা বিবির গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।ঘটনার সাক্ষী ফারুক হোসেন, খাদিজা বিবি ও মজিবর রহমান বলেন, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তারা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বৃদ্ধা ফজিলা বিবিকে আহত অবস্থায় দেখতে পান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরিবারটির দাবি, অভিযুক্তরা এখনও বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বৃদ্ধা মা তার এজাহারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জহুর আলী গাজী কৈখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে চোরাচালান ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বিগত ঈদ উপলক্ষে সরকারি সহায়তার চাল আত্মসাতের অভিযোগ নিয়েও এলাকায় সমালোচনা রয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে অনেকেই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন,আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।