
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর মোড় ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট প্রার্থীকে চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে। আজকের লিখিত/মৌখিক পরীক্ষা এবং নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পরীক্ষার ফলাফল কী হবে—তা নিয়েও আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করে রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগে উল্লিখিত প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত কৃতকার্য হলে এবং নিয়োগ পেলে বিষয়টি নিছক কাকতালীয় হিসেবে দেখার সুযোগ থাকবে না; বরং নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন হবে।
‘পাঁচ লাখ টাকায় নিয়োগের সমঝোতা’:-
অভিযোগে সবচেয়ে গুরুতর যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী নির্বাচনের অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, আমিরুল ইসলাম, পিতা—হায়দার আলী, গ্রাম—সখিপুর, নামের এক প্রার্থীকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একই সঙ্গে শামিমা নামের এক নারী প্রার্থীকেও অর্থের বিনিময়ে নির্বাচনের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ:-
অভিযোগকারীরা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অধ্যক্ষের ভূমিকা কী এবং অভিযোগে উল্লিখিত অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তিনি কী জানেন—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
পরীক্ষা কি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা?:-
অভিযোগকারীদের মূল প্রশ্ন এখানেই—যদি কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট করে রাখা হয়ে থাকে, তাহলে নিয়োগ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা কোথায়?তাদের দাবি, একটি স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রত্যেক প্রার্থী সমান সুযোগ পাওয়ার কথা। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহণ, খাতা মূল্যায়ন, নম্বর প্রদান, মৌখিক পরীক্ষা, বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং চূড়ান্ত মেধাক্রম—প্রতিটি ধাপেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ কারণে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পরীক্ষার খাতা, প্রশ্নপত্র, নম্বরপত্র, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর, মেধাক্রম, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী এবং চূড়ান্ত নিয়োগসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
ফলাফলের দিকে নজর অভিযোগকারীদের:-
অভিযোগকারীরা বলছেন, পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তারা যদি পরীক্ষায় কৃতকার্য হন এবং পরবর্তীতে নিয়োগ পান, তাহলে তাদের মেধাক্রম ও প্রাপ্ত নম্বরসহ পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে কোনো প্রার্থী পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া বা নিয়োগ পাওয়াই এককভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রমাণ নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন হবে নির্ভরযোগ্য নথি, সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি:-
অভিযোগকারীরা স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এবং নিয়োগ বোর্ডের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আবার অভিযোগ সত্য না হলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নথিভুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে পরবর্তীতে কোনো প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহজেই প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই জরুরি:-
সখিপুর মোড় ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগের একদিকে রয়েছে অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দাবি; অন্যদিকে রয়েছে একটি নিয়মতান্ত্রিক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন।তাই অভিযোগকে সত্য বা মিথ্যা ধরে নেওয়ার পরিবর্তে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার ফলাফল, প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর, মেধাক্রম এবং নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যভাবে যাচাই করা গেলে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী জানান, নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছতার সাথে হচ্ছে । এখানে ডিজি প্রতিনিধি সহ স্থানীয় বি এনপির নেতারা রয়েছে । ১৪ জন নিয়োগ পরীক্ষা দিচ্ছে ।যিনি প্রথম হবে তাকে নিয়োগ প্রদান করা হবে। এখানে দূনীতির কোন সুযোগ নেই বলে তিনি দাবী করেন।