নিজস্ব প্রতিবেদক : সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং ২২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেছেন দৈনিক সাতনদী পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ফেরদৌস আহম্মেদ।
জিডি আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কালিগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একাধিক অভিযোগের সূত্র ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। পরে এই প্রতিবেদক সংবাদটি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতেও শেয়ার করেন।
সংবাদ প্রকাশের পর কালিগঞ্জ উপজেলার মহিষকুড় গ্রামের শেখ সোকর আলীর ছেলে শেখ তাজিম বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে সংবাদটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য এই প্রতিবেদক কে চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু তিনি সংবাদটি অপসারণে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, সম্প্রতি তিনি গ্রামের বাড়িতে গেলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানতে পারেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মুদি দোকানের আড়ালে সহযোগীদের নিয়ে মাদক সেবন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে তিনি সাতক্ষীরায় ফিরে আসেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুন ২০২৬, সকাল আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে শেখ তাজিম তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফেরদৌস আহম্মেদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল করেন এবং ভয়েস মেসেজ পাঠান।
অভিযোগে বলা হয়, ওই ভয়েস মেসেজে এই প্রতিবেদককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাবে আঘাত ও প্রাণনাশের হুমকি, বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি সাধনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ২২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না দিলে গ্রামের বাড়িতে গেলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, ঘটনার WhatsApp কল লগ, ভয়েস মেসেজ, ঘটনার বিষয়ে অবগত দুইজন ব্যক্তির তথ্যসহ অন্যান্য ডিজিটাল আলামত তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থাকে প্রদান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব হুমকির কারণে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। তার বাবা-মা ও ভাই বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলার মহিষকুড় গ্রামে বসবাস করেন। তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ অবস্থায় এই প্রতিবেদক সাতক্ষীরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে বিষয়টি রেকর্ডভুক্ত করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ডিউটি অফিসার সোহেল মোল্লা সাধারণ ডায়রি (জিডি) গ্রহণ করেছেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ তাজিমের বিরুদ্ধে একাধিক জিআর ও নন-জিআর মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে কালিগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী উত্ত্যক্ত, ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ দাবি, চুরি, হত্যার হুমকি এবং সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল।
অভিযোগকারীদের পায়েধরে সমঝোতা ও থানায় মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে আইনি জটিলতা এড়িয়েছিলেন।
বর্তমানে তাজিম এর মুদি দোকানটি বন্ধ থাকতে দেখা যায়। এজন্য তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, তাজিম এলাকায় ‘টেম্পু’ নামে বেশি পরিচিত। তার ব্যবহার এবং কর্মকান্ডের জন্য এলাকার সকলে তাকে এড়িয়ে চলে। সে সবসময় মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তাজিমের আরো বিস্তারিত নিয়ে আসছি আগামি পর্বে ,দেখতে চোখ রাখুন দৈনিক সাতনদী পত্রিকার পাতায়।
তাজিমের পূর্বের প্রকাশিত সংবাদের লিংক :