মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ ব্যুরো :আকাশজুড়ে মেঘের গর্জন আর শ্রাবণের অবিরাম বারিধারায় স্থবির হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার জনজীবন। টানা বর্ষণে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে নলতা, ভাড়াশিমলা, দক্ষিণশ্রীপুরসহ প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম এখন পানির নিচে। এই জলাবদ্ধতার জেরে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে, মৎস্যচাষীদের ঘের ভেসে গেছে এবং মাঠের পর মাঠ উঠতি ফসল পচতে শুরু করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেমে এসেছে এক গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা।
কালিগঞ্জের অর্থনীতি মূলত কৃষি ও মৎস্য চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমান জলাবদ্ধতা এই দুই খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধানের বীজতলা পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে পচে গেছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন শাকসবজি ও উঠতি ফসল। কৃষকরা তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে ফসল ফলিয়েছিলেন, তা চোখের সামনে পচে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কালিগঞ্জের উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলে অসংখ্য মৎস্য ঘের ও পুকুর রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ও অপরিকল্পিত জলমগ্নতার কারণে একাধিক ঘেরের বাঁধ ভেঙে বা উপচে মাছ ভেসে গেছে। ঘের মালিক ও ক্ষুদ্র মৎস্যচাষীরা লাখ লাখ টাকার লোকসানের মুখে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।
উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কালিগঞ্জের স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে। সদরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের তরিতরকারী ও শাকসবজির দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সাধারণ খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা বাজার করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই ঊর্ধ্বগতি জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
কালিগঞ্জের বর্তমান এই মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক সংকটের পেছনে মূলত কয়েকটি কাঠামোগত ত্রুটি ও উদাসীনতা দায়ী বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশেষজ্ঞরা। এ্যাড. জাফর উল্যাহ ইব্রাহিম বললেন-প্রাকৃতিকভাবে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমগুলো আজ বেদখল হয়ে গেছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বসতি স্থাপন ও অপরিকল্পিত ঘের নির্মাণের মাধ্যমে পানি চলাচলের প্রধান খাল ও নালাগুলো জবরদখল করে রেখেছেন। যার ফলে কালিগঞ্জের নিন্মাঞ্চল ডুবতে শুরু করেছে।
কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো ঘের তৈরি করায় বর্ষার পানি স্বাভাবিকভাবে নামতে পারছে না। এক শ্রেণির অসাধু মৎস্যচাষী পানি নিষ্কাশনের পথগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখায় পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। সাবেক কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি আলাউদ্দীন সোহেল বললেন আমাদের ঘের ব্যবস্থা পরিকল্পিত ভাবে না হলে আমরা এভাবে তলিয়ে যাবো।