ডা. লিটন: শ্যামনগর উপজেলায় ভুরুলিয়া ইউনিয়নে ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে খেলা শেষে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।মঙ্গলবার (২৯ জুন) উপজেলার জাহাজঘাটা এলাকায় চণ্ডিপুর গ্রামের ফুটবল দল ও মাজাট-অনন্তপুর এলাকার ফুটবল দলের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলার একপর্যায়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আয়োজক কমিটির সদস্যরা তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং খেলা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
আহত এক খেলোয়াড় জানান, খেলা শেষে চণ্ডিপুর দলের খেলোয়াড়রা বাড়ি ফেরার পথে প্রধান সড়কে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষরা তাদেরকে হামলা চালায়। তিনি আরো বলেন, মাঠে সৃষ্ট উত্তেজনা তখনই মিটে গিয়েছিল। কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময় প্রতিপক্ষের কয়েকজন তাদের হুমকি দেয়। পরে প্রধান সড়কে উঠতেই তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। এরপর ভ্যান থামিয়ে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ চালায়। স্থানীয় এক নারীসহ কয়েকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন।হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন রানা (২৫), বাবু (২৮), সজল (২১), আরাফাত (২০) ও রাজন (২২)। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।ঘটনার খবর পেয়ে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সবাইকে শান্ত থেকে আইনের প্রতি আস্থা রাখার আহবান জানান। একই সঙ্গে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করারও অনুরোধ করেন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পিয়ার উদ্দীন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।