
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা গতকাল ১৫ ই এপ্রিল বুধবার থেকে সারা দেশে এক যোগে শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ১৯ শে এপ্রিল-২০২৬ রবিবার পর্যন্ত। সারা দেশে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষাটি শুরু হয় সকাল ১০.০০টায় এবং শেষ হয় দুপুর ১২.৩০ মিনিটে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা উৎসব মূখর পরিবেশে পরীক্ষা অংশ নিয়েছে। শ্যামনগর উপজেলায় নকিপুর সরকারি এইচসি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নকিপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে উপজেলার দুই-শতাধিক বিদ্যালয়ের(সরকারি ও অন্যান্য) কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উৎসবমূখর পরিবেশে অংশ নেয়।
বিশেষ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটারসংবাদ না থাকলেও নকিপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী হল সুপার মোঃআমিনুর রহমানের নামে পরীক্ষাকক্ষে দূর্নীতি করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকবৃন্দ ও নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় তিনি উপজেলার ১৩ নং হায়বাতপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। সহকারি হল সুপার হিসেবে সকল কক্ষে গিয়েছেন এবংতার বিদ্যালয়ের শিশুদের পাশে গিয়ে প্রশ্নের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়েছেন।কাউকে কাউকে উত্তর বলে দিয়েছেন।বিষয়টির সত্যতা মিললেও তিনি ভয়ানক অপরাধ করেছেন। তিনি নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।অভিযোগকারীরা আরোজানান যে, যেহেতু দুটি কেন্দ্র এবংতার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে সেই কেন্দ্রে তাকে সহকারী হল সুপারের দায়িত্ব দেওয়ায় উপজেলা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্নতুলেছেন কেউ কেউ।
পৌরএলাকার সব বিদ্যালয় গুলো একই কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ করলে এমনটি হতোনা। খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, শ্যামনগর পৌরএলাকার বেশির ভাগ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র নকিপুর সরকারি এইচসি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। অথচ হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীদের আলাদা করে নিয়ে যাওয়া এবং সহকারী হল সুপার হিসেবে মোঃআমিনুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন। কোমলমতি শিশুদেরকে নিয়ে কোন হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা হচ্ছে কিনা সেটিও দাবী অভিযোগকারীদের। উপজেলায় বহু গুণী ও নিরপেক্ষ শিক্ষক থাকার পরেও দুটি কেন্দ্রে হলসুপার ও সহকারীহলসুপার হিসেবে যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা সবাই বহু বিতর্কিত। এ বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষকগণ বলেন- কেন্দ্রের প্রধান দায়িত্ব প্রাপ্ত হলসুপার ও সহকারীহলসুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মুলতঃ যোগ্যতায়নয়, তাদের তিনজন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ( হলসুপার আব্দুল্ল্যাহ আলমামুন, হলসুপার গণেশ চন্দ্র সাহা এবংসহকারী হলসুপার মোঃআমিনুররহমান) আস্থাভাজন এবং একজন ( সহকারী হলসুপার বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল) সভাপতির আস্থাভাজন। জাতিগড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজে এমন আত্মীয়করণে সাধারণ শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণের মধ্যে হতাশার চিত্রফুটে উঠেছে।
সকল শিক্ষার্থীকে সমান চোখে দেখা এবং কোন শিক্ষার্থীকে বিশেষ সুবিধানা প্রদান করার আহবান অভিযোগকারীদের। প্রকৃত মেধারমূল্যায়ন হোকএমনটিই চাওয়া তাদের। একই সাথে কেহ অপরাধ করলে বিভাগীয় শাস্তির আহবান তাদের। সহকারীহল সুপার মোঃআমিনুর রহমানের নিয়োগদানের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃএনামুল হকের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন- কোন শিক্ষকের পোষ্য পরীক্ষার্থী না থাকলে, তাকে নিয়োগ দিতে বাধা নেই। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃআমিনুর রহমানের কোন পোষ্য পরীক্ষার্থী না থাকায় তাকে সহকারী হলসুপার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবংতিনি কোন পরীক্ষার্থীর পাশে যেতে পারবেন না।তিনি আরো বলেন- প্রথম দিনের পরীক্ষা ভালই হয়েছে। আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। পরীক্ষা গ্রহণের সাথে যুক্ত সকলকে কঠোর ভাবে নির্দেশ দেওয়া আছে, যেকোন ধরণের অপরাধ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।