# গর্ভবতী ছাগল পিটিয়ে হত্যার, থানায় লিখিত অভিযোগ
# নারীকে প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভা এলাকার খানপুর ও ইছাকুড় গ্রামে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীকে কুপ্রস্তাব, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মনির হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই নারীর পালিত গর্ভবতী ছাগল পিটিয়ে হত্যারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইছাকুড় গ্রামের মোছা. ফাতিমা খাতুন (২৭) ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভিযুক্ত মনির হোসেনের জমিতে কৃষিকাজ করে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তিনি টাকা পরিশোধ না করে ফাতিমাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় এবং পাওনা টাকা চাওয়ায় তাঁকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ফাতিমার পালিত একটি কালো রঙের গর্ভবতী ছাগল অভিযুক্তের বাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করে। এ সময় মনির হোসেন ছাগলটিকে ধরে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফাতিমার দাবি, ছাগলটির পেটে প্রায় পাঁচ মাস বয়সী দুটি বাচ্চা ছিল। ছাগল ও গর্ভস্থ দুটি বাচ্চা মারা যাওয়ায় তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ছাগলের চিৎকার শুনে ফাতিমা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে ছাগলটি পেটাতে দেখেন। এ সময় তিনি প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর, প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি এছাড়া বিষয়টি নিয়ে কোথাও অভিযোগ করলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে এলাকায় শান্তিতে বসবাস করতে দেওয়া হবে না এবং পরিবারের নারী সদস্যদের সম্মানহানির ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মোছা. জাহানারা বেগম (৪৯), স্বামী মো. মাহাবুব সরদারের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় আরও কয়েকজন বিষয়টি জানেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। এ ঘটনায় মোছা. ফাতিমা খাতুন শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ছাগল ও গর্ভস্থ বাচ্চাগুলোর ক্ষতিপূরণ আদায়সহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মনির হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।