প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১১, ২০২৬, ১১:১০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১১, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে দুই হিন্দু পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থানায় লিখিত অভিযোগ

আইয়ুব আলী,শ্যামনগর: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা উপজেলার আড়পাংগাশিয়া গ্রামে দুই হিন্দু পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে স্থানীয় যুবক মোঃ মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আড়পাংগাশিয়া গ্রামের সুকুমার মন্ডল, পিতা- দিনদয়াল মন্ডল, পেশায় তপোবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়ে মোহনা রানী মন্ডল (১৮) মুন্সিগঞ্জ বাজারে পরিচালিত মাসুম বিল্লাহর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দোকানে প্রশিক্ষণ নিতে যেতেন। সেই সুবাদে অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ, পিতা- শহিদুল ইসলাম, সাং মুন্সিগঞ্জ, শ্যামনগর, তার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মত্যাগ করিয়ে বিয়ে করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মোহনা রানীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে কিছুদিন পর পুনরায় যোগাযোগ করে তাকে নিয়ে যান মাসুম বিল্লাহ। এরপর থেকে মেয়ের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেন সুকুমার মন্ডল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে অভিযুক্ত তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে, পরিতোষ কুমার বৈদ্য, পিতা- অরবিন্দ বৈদ্য, অভিযোগ করেন, মোহনা রানী তার মামাতো বোন। তিনি জানান, অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহর পূর্বে আরও তিনটি বিয়ে ছিল বলে তারা জানতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মকিন্দ পাইক'সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অঙ্গীকারনামা ও তালাকনামাও সম্পন্ন হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও মোহনা রানীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মাসুম বিল্লাহ।
পরিতোষ কুমার বৈদ্য আরও অভিযোগ করেন, তিনি একটি এনজিওতে চাকরি করেন। সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ বাজার থেকে অফিসে যাওয়ার পথে মাসুম বিল্লাহ তার জামার কলার ধরে টেনে দোকানের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তার কাছে ৪০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন
স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে অভিযুক্ত সেখান থেকে সরে যান। পরে বিভিন্ন সময় পথেঘাটে পেলে সবকিছু কেড়ে নেওয়া মিথ্যা মামলা দেওয়া ও খুনজখম করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সুন্দরবন প্রেসক্লাব-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনেও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান স্থানীয়রা।ভুক্তভোগী দুই পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
https://satnadee.com/