আইয়ুব আলী: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, বন্যা ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। এই প্রতিকূলতা মোকাবিলায় স্থানীয় কৃষকদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নয়ন সংগঠন 'লিডার্স' জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ কৃষকদের মাঝে লবণ, খরা ও বন্যা সহিষ্ণু ধান বীজ এবং জৈবসার বিতরণ করেছে।
লিডার্স-এর ফিন্যান্স ডিরেক্টর জনাব আনোয়ার রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব ওয়ালিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডার্স-এর কার্যকরী সদস্য জনাব রনজিত কুমার বর্মন, আটুলিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব মো. সামছুর রহমান এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব আশালতা।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরে লিডার্স-এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জনাব মুহাম্মদ মঞ্জুরুল হক বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। এমতাবস্থায় লবণ, খরা ও বন্যা সহিষ্ণু ধানের জাত সম্প্রসারণ এবং জৈবসারের ব্যবহার বৃদ্ধি কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় কৃষকদের অবশ্যই আধুনিক প্রযুক্তি ও জলবায়ু সহনশীল জাতের ফসল চাষে আগ্রহী হতে হবে। সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের পাশাপাশি লিডার্স-এর মতো উন্নয়ন সংস্থার এ ধরনের উদ্যোগ উপকূলীয় কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে বিশেষ অবদান রাখবে।”
আলোচনা সভায় বক্তারা লবণাক্ততা ও বন্যাজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ এবং রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, জৈবসারের ব্যবহার মাটির গুণাগুণ রক্ষা করবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করবে এবং একটি পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।