আব্রাহাম লিংকন ও জি এম শফিকুল ইসলাম : শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ঝুরঝুরি খাল থাকলেও নেই পানি নিষ্কাষনের সুবন্দোবস্ত । যার ফলে হাজার বিঘা ধান্য ফসল ও সবজির জমি পানিতে তলিয়ে আছে। অপর দিকে খালটির কিছু অংশ জবর দখল করে মৎস্য ঘের পরিচালনা করছে একটি চক্র। সরজমিনে দেখা যায় , রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বাজার , ভেটখালী , তারানীপুর ও মানিকখালী বিলের পানি ঝুরঝুরি খালে যায়। কিন্তু খাল দিয়ে পানি নিষ্কাষনের কোন ব্যবস্থা নাই। খালের শেষ সীমানায় মেইন রাস্তা ও অজিত বাছার ও সরজিৎ বাছারের বসত ভিটা থাকায় পানি জমাট বেঁধে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবন্ধতা তৈরী হয়। যার ফলে ধান্য ফসলের মাঠ , বসত ভিটা , পুকুর , গাছগাছালি, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অপর দিকে খালের কিছু অংশ তারানীপুর গ্রামের আবুল কাসেমের পুত্র মোঃ সমসের , মৃত অমেদ আলী শেখের পুত্র মোঃ মজিদ কারিগর , সোরা গ্রামের এশার আলী মোল্যার পুত্র মোঃ আশরাফ আলী মোল্যাসহ বেশ কয়েকজন জবর দখল করে রেখেছে। বিল ও খালের পাশে মুন্ডা সম্প্রদায় বসবাস। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা না থাকায় তারা খুবি কষ্টে জীবন ধারণ করে চলেছে।
স্থানীয়দের মধ্যে সাইফুল ইসলাম বলেন , ঝুরঝুরি খাল জবর দখল ও পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর আমরা বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আসছি। এ বছর ধানের বীজ বপন করতে পারছি না। উপর দিকে বসত ভিটার ও ক্ষতি হচ্ছে। এ ভাবে চললে আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হব এবং এলাকার মানুষের মধ্যে দারিদ্রতার হার বৃদ্ধি পাবে।
একই এলাকার আবু সাঈদ বলেন , ঝুরঝুরি খালটি আংশিক পুনঃ খনন ও ভেটখালী - তারানীপুর পাঞ্জেগানা মসজিদ সংলগ্নে ভেটখালী বাজার , ভেটখালী ও তারানীপুরের পানি নিষ্কাষনের জন্য কালভার্ড নির্মাণ করার করার ফলে জলাবদ্ধতা বেশি সৃষ্টি হচ্ছে। নিঃস্ব হচ্ছি আমরা , যেন দেখার কেউ নাই। জবর দখল মুক্ত ও খালের সীমানা উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা করা হোক।
প্রিয়তোষ মুন্ডা বলেন , প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দূর্ভোগের শেষ থাকে না। ধান ও সবজি চাষের জমি পানিতে তলিয়ে যায় । কাচা ঘর-বাড়ীসহ বসত ভিটা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় পাশাপাশি শিশুদের জীবনের নীরাপত্তা নিয়ে সব সময় ঝুঁকিতে থাকি। কিছু ব্যক্তি খালটি জবর দখল করে মৎস্য ঘের করছে। ঝুরঝুরি খালের পানি মানিকখালী খালে যাওয়ার সীমনায় পাঁকা রাস্তা এবং বসত ভিটা থাকায় পানি নিষ্কাষন হয়না।
এ বিষয়ে ঝুরঝুরি খাল জবর দখলকারী সমসের জানান , সরকার খাল খনন করলে আমাদের কোন আপত্তি নাই। আমরাও চাই ঝুরঝুরি খাল দিয়ে পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা হোক।
রমজাননগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন জানান , ইতি পূর্বে ঝুরঝুরি খালটির আংশিক ইউনিয়ন পরিষদের উদ্দ্যোগে খনন করা হয়। খালের সীমানায় চলাচলের মেইন রাস্তা ও বসত ভিটা থাকায় মানিকখালী খালের সাথে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক বলেন , উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খালটির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।