মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন : ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সারাদেশ। এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ শনিবার(২৩ মে) সকালে দেশের বিভিন্ন জেলায় একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনারের সামনে প্রান্তিক যুব সংঘসহ দেশের ৭টি সামাজিক ও শিশু সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই মূল কর্মসূচিটি পালিত হয়। একই সময়ে নাটোর, চাঁপেনারায়ণগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার স্থানীয় প্রেসক্লাবের সামনেও সমমনা সংগঠনগুলো একযোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
সারাদেশে এই প্রতিবাদের ডাক দেওয়া ৭টি সংগঠন হলো— হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন, সৃজনশীল গাইবান্ধা, আয়াস বাংলাদেশ, বেতনা যুব উন্নয়ন সংস্থা, প্রান্তিক যুব সংঘ, ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) এবং ইয়াং স্পার্কস অফ বাংলাদেশ।
"আইন আছে কিন্তু কঠোরতা নেই": প্রান্তিক যুব সংঘের সভাপতি মানববন্ধনে শিশু, তরুণ, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা দেশে শিশু নির্যাতনের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে প্রান্তিক যুব সংঘের সভাপতি হৃদয় মন্ডল বলেন "আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বর্তমানে আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে আইন আছে, কিন্তু সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও কঠোরতা দৃশ্যমান নয়। বিচারহীনতা ও আইনের শিথিলতার সংস্কৃতির কারণেই আজ দেশে শিশু ও নারী ধর্ষণ, হত্যা এবং পাচার দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আর কোনো রামিসাকে এভাবে হারাতে চাই না। অবিলম্বে এই বর্বরতার অবসান চাই।"
চার মাসে ১৯৯ শিশু নির্যাতনের শিকার সমাবেশে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই মাত্র চার মাসেই দেশে অন্তত ১৯৯ জন শিশু চরম সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যার মধ্যে ৯৪ জন শিশু ধর্ষণের শিকার এবং ৩৪ জন শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। সমাজজুড়ে মাদকাসক্তি, নৈতিক অবক্ষয় এবং দ্রুত বিচার না হওয়ার সংস্কৃতির কারণেই শিশুরা আজ কোথাও নিরাপদ নয় বলে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শাস্তির দাবি সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে শিশু রামিসা হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে অপরাধীদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তবে ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের তৎপরতার প্রশংসা করেন আন্দোলনকারীরা।
আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, শিশু রামিসার জন্য পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ চলবে এবং শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।