মেহেদী হাসান, খুলনা থেকে: নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মৃদু বাতাসে দুলছে সারি সারি শুভ্র কাশফুল। কোথাও পরিবার নিয়ে ঘুরছেন দর্শনার্থীরা, কেউ এসেছেন বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে কাটাচ্ছেন একান্ত কিছু মুহূর্ত। কারও হাতে মোবাইল ফোন, কেউ ব্যস্ত ক্যামেরায় স্মৃতি ধরে রাখতে। শরতের এমন মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে মুগ্ধ খুলনাবাসী। নগরীর কেডিএ ময়ূর আবাসিক এলাকা যেন হয়ে উঠেছে কাশফুলের রাজ্য যেখানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা স্বস্তি খুঁজছেন ব্যস্ত নগরজীবনের মানুষ।
শরৎ এলেই বাংলার প্রকৃতিতে দেখা মেলে কাশফুলের শুভ্র আয়োজন। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলের মিতালি মন ছুঁয়ে যায় প্রকৃতিপ্রেমীদের। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখন দূরে কোথাও ছুটে যেতে হচ্ছে না খুলনাবাসীকে। নগরীর কেডিএ ময়ূর আবাসিক এলাকার বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে ফুটে থাকা কাশফুলই তৈরি করেছে গ্রামবাংলার শরতের এক অনন্য আবহ।
শরতের কোমল রোদে কাশফুলের শুভ্রতা যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ফুলের সারি আর চারপাশের মনোরম পরিবেশে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। শহরের ব্যস্ততা, যানবাহনের শব্দ আর প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে এসে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে খুশি তাঁরা।
দর্শনার্থী শেখ বাপ্পি বলেন, সারাদিন অফিসের ব্যস্ততা শেষে বাসায় ফেরার পথে বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের সৌন্দর্য দেখে এখানে চলে এসেছি। শহরের ব্যস্ত জীবনে এমন পরিবেশে কিছুক্ষণ সময় কাটালে মনটা ভালো হয়ে যায়। প্রকৃতির মাঝে দাঁড়িয়ে সব ক্লান্তি যেন কিছুটা ভুলে থাকা যায়।
দর্শনার্থী পারভেজ হাওলাদার বলেন, এর আগেও এখানে কাশফুল দেখতে এসেছিলাম। জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমার খুব ভালো লেগেছিল। তাই এবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি, যেন তাঁরাও এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। পরিবারের সঙ্গে এমন পরিবেশে সময় কাটানো সত্যিই আনন্দের।
বাবার সঙ্গে ঘুরতে এসে আনন্দে মেতে উঠেছে ১০ বছর বয়সী রূপকথা। এখানকার পরিবেশ কেমন লাগছে জানতে চাইলে সে বলে, এখানে এসে আমার খুবই ভালো লাগছে। সবাই ছবি তুলছে, আমিও ছবি তুলেছি। এখানকার পরিবেশটা অনেক সুন্দর।
এদিকে, কাশফুলের সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত স্মৃতি নামের এক তরুণী। পছন্দের মুহূর্তগুলো ফ্রেমে ধরে রাখছিলেন তিনি। চারপাশের শুভ্র কাশফুল আর মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে এসে তাঁরও ভালো লাগছে জায়গাটি।
দর্শনার্থীদের আনাগোনায় কেডিএ ময়ূর আবাসিক এলাকার কাশফুলঘেরা জায়গাটি হয়ে উঠেছে শরৎ উপভোগের আকর্ষণীয় স্থান। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাঁটছেন, আবার কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠেছেন। শিশুদের উচ্ছ্বাস আর তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠছে কাশফুলের চারপাশ।
শুধু সৌন্দর্য উপভোগ নয়, নগরজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগও এনে দিয়েছে প্রকৃতির এই আয়োজন। ব্যস্ততার ভিড়ে এমন ছোট ছোট মুহূর্তই অনেকের কাছে হয়ে উঠছে আনন্দ ও প্রশান্তির উৎস।
শহরের বুকেই শরতের এই শুভ্র আয়োজন যেন খুলনাবাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতির কাছে ফেরার কথা। নীল আকাশের নিচে দুলতে থাকা কাশফুলের সারি তাই শুধু সৌন্দর্যের হাতছানি নয়, ব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তি খুঁজে নেওয়ারও উপলক্ষ। আর সেই স্বস্তির টানেই পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে কাশফুলের রাজ্যে ছুটে আসছেন নগরবাসী।