
ফেরদৌস আহমেদ : কক্সবাজারের তিনটি বাগদা পোনা উৎপাদনের হ্যাচারি ভাড়া নিয়ে ভেনামী চিংড়িপোনা উৎপাদন করে চোরাইভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ভেনামী উৎপাদনের লাইসেন্স প্রাপ্ত হ্যাচারির মালিক। সোমবার মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা পাইকগাছার ন্যাশনাল হ্যাচারী পয়েন্টে অবৈধ ভেনামী চিংড়ীপোনা উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে হারিনা চিংড়ির মত দেখতে ভেনামী চিংড়ি চাষ কৃষকদের আকৃষ্ট করেছে যা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনকও বটে। ফলে বাগদা পোনার পাশাপাশি ভেনামী চিংড়ি পোনার চাহিদা বেড়েছে। লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়ে কক্সবাজারের নিরিবিলি হ্যাচারী একমাত্র ভেনামী চিংড়ি পোনা উৎপাদন করছে । সরকারি ভাবে ৬টি হ্যাচারি ভেনামি চিংড়ি পোনা উৎপাদনের অনুমতি পেয়েছে।
সাতক্ষীরার ১৩৮ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও দেবহাটা সীমান্ত পেরিয়ে ওপার থেকে দেদারছে ভেনামী চিংড়ির ও বাগদা চিংড়ির নপলি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এ সব নপলি সাতক্ষীরায় ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা কিছু হ্যাচারিতে প্রবেশ করছে।
পাশাপাশি কক্সবাজারের বাগদা চিংড়ি উৎপাদনের হ্যাচারী মেরীগোল্ড ও রাইসা ভাড়া নিয়ে ঢাকাস্থ একজন অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বিপুল পরিমাণ ভেনামী চিংড়িপোনা উৎপাদন করছেন। উৎপাদিত এই চিংড়ি পোনা মানসম্পন্ন নয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষিরা। এই চিংড়িপোনা পাইকগাছার ন্যাশনাল হ্যাচারিতে এনে শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলায় চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরার কিছু কিছু নার্সিং পয়েন্টেও ভেনামীর পোনা সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
নিরিবিলি হ্যাচারির জেনারেল ম্যানেজার সুজন দৈনিক সাতনদীকে জানান, মেরিগোল্ড ও রাইসা হ্যাচারি ছৈয়দ নুর ও মোঃ হাসেম ভাড়া নিয়ে ভেনামী চিংড়ি পোনা উৎপাদন করে আসছে ২০২৫ সাল থেকে । অভিযোগ আছে যে, মৎস্য অধিদপ্তর বারবার অভিযান পরিচালনা করার পরেও কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে তাদের এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না ।
আরো অভিযোগ আছে যে, কক্সবাজারস্থ হ্যাচারি থেকে অবৈধ ভেনামি চিংড়ি ব্রুড থেকে নফলি সংগ্ৰহ করে আসছে। উক্ত দুটি হ্যাচারির এই অপকর্মের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের কালো তালিকাভুক্ত আছে। প্রান্তিক চাষীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হ্যাচারি গুলো কালো তালিকাভুক্ত করে লাইসেন্স বাতিল করার জান্য দাবি জানিছে চাষিরা ।
গতকাল সোমবার খুলনা জেলার পাইকগাছার ন্যাশনাল হ্যাচারী থেকে ৬০০ বক্স সাদা পলিতে ভেনামী চিংড়ি পোনা শ্যামনগরের বংশীপুরে চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ীদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে ভোর সকালে। এ ভাবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা চোরাইভাবে ভেনামী চিংড়ি পোনা উৎপাদন করে বাজারে ছাড়ছে চোরাই ভাবে। এতে করে ভেনামী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়ীক ভাবে মার খাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সাতনদীর অনুসন্ধানে জানা গেছে গত বছর অবৈধভাবে উৎপাদন করা ভেনামী চিংড়ি পোনা সাতক্ষীরা বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি শুরু হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এই ব্যবসায়ীরা রাতারাতি সাতক্ষীরা থেকে পালিয়ে যায়।
অবৈধ ভেনামী পোনা বাজারজাত করা পাইকগাছার ন্যাশনাল চিংড়ি হ্যাচারির মালিক শাহিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ভেনামী চিংড়িপোনা বাজারজাত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে গতকাল সোমবার মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা অবৈধ ভেনামী চিংড়ি পোনার খোজে তার হ্যাচারিতে অভিযান চালিয়েছে বলে স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে মেরিগোল্ড হ্যাচারির ম্যানেজার সানাউল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই।
অপরদিকে ভেনামী চিংড়ি পোনা উৎপাদনকারী নিরিবিলি হ্যাচারির জেনারেল ম্যানেজার সুজন অভিযোগ করে বলেন,নিরিবিলি হ্যাচারি সহ প্রায় ৬ টি হ্যাচারি ভেনামি চিংড়ি পোনা উৎপাদনের অনুমতি পায়। নিরিবিলি হ্যাচারি ভেনামি পোনা উৎপাদনে যায় ২০২৪ সাল থেকে। চাষের সীমাবদ্ধতা থাকায় অনুমোদিত অন্যান্য হ্যাচারি গুলো এখনো পর্যন্ত উৎপাদনে যায়নি। এক্ষেত্রে নিরিবিলি হ্যাচারি উৎপাদন গিয়েও অবৈধ পোনার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে । এই অবস্থায় মৎস্য অধিদপ্তর অবৈধ ভেনামি চিংড়ি পোনা উৎপাদন বন্ধ না করলে আর কোন বৈধ হ্যাচারি উৎপাদন আসবে কিনা সন্দেহ আছে।