প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ২৮, ২০২৬, ৮:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২১, ২০২০, ১২:১১ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ‘শূন্য’ ডলার
![]()
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম কমে দেশটির স্মরণকালের ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০ এপ্রিল সোমবার মার্কিন শেয়ারবাজারে অপরিশোধিত তেল কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমেছে ২০ শতাংশ। ফলে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ ডলারের নিচে। তবে ফিউচার মার্কেটে আগামী মে মাসের জন্য করা চুক্তিতে তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ০ ডলারেরও নিচে। দেশটিতে তেলের এতোটা দরপতন আর কখনও হয়নি। মূলত করোনাভাইরাসের জেরে বিশ্বজুড়ে টানা লকডাউনের ফলে চাহিদা কমে যাওয়ায় এই দরপতন দেখা দিয়েছে।
তেলের বেচাকেনা চলে ভবিষ্যত মূল্যের ওপর নির্ভর করে। আগামী মে মাসের ভবিষ্যত চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)। ফলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের হাতে থাকা তেলের মজুদ ছেড়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দরপতন হয়েছে ৯০ শতাংশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, ফিউচার মার্কেটে আগামী মে মাসের জন্য করা চুক্তিতে তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ০ ডলারেরও নিচে। এর অর্থ হচ্ছে, উৎপাদকরা এখন হাতে থাকা তেল ছেড়ে দিতে উল্টো ক্রেতাদের দাম পরিশোধ করছে।
উৎপাদকদের আশঙ্কা, আগামী মে মাসের মধ্যেই তাদের মজুদ ক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাবে। তখন অতিরিক্ত সরবরাহ মজুদ করতে তারা ট্যাংকার ভাড়া করতে বাধ্য হবে। অর্থাৎ, উৎপাদকরা তেলের দাম মাত্রাতিরিক্ত কমিয়ে সংরক্ষণাগারের খরচ কমানোর চেষ্টা করেছেন। মূলত এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে দাম ঋণাত্মক পর্যায়ে বা ০ ডলারের নিচে পৌঁছেছে।
একদিকে আগের তুলনায় মানুষ ভ্রমণ সীমিত করায় তেলের চাহিদা কমে গেছে। অন্যদিকে তেলের মজুতকেন্দ্রগুলো পরিপূর্ণ হয়ে আছে। এ দুইয়ের ফলে বাজারে এমন ভয়াবহ চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
“ন্যাশনাল এভারেজ গ্যাস প্রাইজেস” এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন রাজ্য জুড়ে দেখা গেছে যানবাহনের সাধারণ গ্যাসের দাম গ্যালন প্রতি গড়ে ১ দশমিক ৮১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পতনের মাত্রা বেশি হলেও কমবেশি বিশ্বজুড়েই চলছে তেলের দরপতন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত সপ্তাহে আলোচনা শুরু হয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে। গত ১৩ এপ্রিল নানা আলোচনা জল্পনার পর ওপেক প্লাস ও তেল উৎপাদক মিত্রদেশগুলো উৎপাদন কমানোর ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছায়। দৈনিক ৯৭ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর ব্যাপারে একমত হয় শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রফতানিকারকদের এই জোট। সূত্র: সিএনএন, বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা।
https://satnadee.com/