মেহেদী হাসান: একটি নামকে ঘিরে রাজনীতি, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্ন খুলনায় জিয়া মঞ্চের বিভাগীয় সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলুর বক্তব্যে উঠে এসেছে এমনই নানা প্রসঙ্গ। ‘জিয়া’ নামকে বাংলাদেশের জাতির ভাগ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এই নামটি একটি পবিত্র নাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন বলেই জাতি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ পেয়েছে।শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের মিলনায়তনে জিয়া মঞ্চের খুলনা বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বরকত উল্লাহ বুলু।তবে সম্মেলনের বক্তব্য শুধু জিয়াউর রহমানকে ঘিরে ছিল না। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ‘৩৬ জুলাই’কে ঘিরে বিতর্ক, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে সমালোচনাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।বরকত উল্লাহ বুলুর ভাষ্য, ‘জিয়া’ নামটি বাংলাদেশের জাতির ভাগ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাঁর দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন এবং তাঁর ঘোষণার মধ্য দিয়েই জাতি স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়।তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁদের রাজনৈতিক জীবনে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। তাঁদের রাজনৈতিক আদর্শ ও চেতনা অনুসরণ করেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।তারেক রহমান প্রসঙ্গে বুলু বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রক্ত যেহেতু তারেক রহমানের ধমনিতে প্রবাহিত, তাই তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবেন না।২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর উত্তরসূরি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। বুলুর এই বক্তব্যে মূলত বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত করার একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা উঠে আসে।মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও সম্মেলনে বক্তব্য দেন বরকত উল্লাহ বুলু। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে ‘৩৬ জুলাই’কে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ভাষ্য ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বয়ানের মধ্যে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিও সম্মেলনের আলোচনায় জায়গা পায়।সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করেন বুলু। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতির ক্ষেত্রে ড. ইউনূস শেখ হাসিনাকেও ছাড়িয়ে গেছেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য, পরিসংখ্যান বা নথি উপস্থাপন করেছেন কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর বক্তব্যটি রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই এসেছে।
জিয়া মঞ্চের খুলনা বিভাগীয় সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন ,সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজ উল্যাহ ইকবাল। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও খুলনা বিভাগীয় টিম প্রধান সালেহ আহমেদ কাঞ্চন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন খুলনা বিভাগীয় টিম সদস্য ফাহিম আহমেদ, জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জোৎনা খাতুন জ্যোতি, জিয়া মঞ্চ খুলনা মহানগর আহ্বায়ক মীর মো. আলী এহসান এবং জিয়া মঞ্চ খুলনা জেলা আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম। সাংগঠনিক বক্তব্য দেন জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. জামাল হোসেন।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জিয়া মঞ্চের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল্লাহ আজাদী এবং খুলনা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামিম হাওলাদারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।