মেহেদী আলী সুজয়: মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুদের সঙ্গে নিয়ে জন্মদিন পালন করে প্রশংসায় ভাসছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমাতুল্লাহ পলাশ। ব্যক্তিগত আনন্দকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে। প্রচলিত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিবর্তে মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুদের সঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপনের বিষয়টি সামাজিকভাবে আলোচনায় এসেছে।
এইচ এম রহমাতুল্লাহ পলাশ সাবেক মন্ত্রী এম মুনসুর আলীর পুত্র। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর জন্মদিন পালনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নতুন করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে তার কাটিয়াস্থ নিজস্ব বাসভবনেই মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছে মানবিকতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাধারণত জন্মদিন উপলক্ষে নানা ধরনের আয়োজন, কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আনুষ্ঠানিকতার প্রচলন রয়েছে। তবে জন্মদিনের আনন্দকে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগ ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। শিশুদের সঙ্গে দিনটি উদযাপন করার মধ্য দিয়ে এমন একটি বার্তা উঠে এসেছে যে, ব্যক্তিগত আনন্দের পাশাপাশি অন্যের মুখে হাসি ফোটানোও হতে পারে উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুরা সমাজের বিশেষ যত্ন ও সহযোগিতার দাবিদার। তাদের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া তাদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সহমর্মিতার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে। এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে আনন্দ সৃষ্টির পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদার করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে এইচ এম রহমাতুল্লাহ পলাশের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। তবে জন্মদিন পালনের ক্ষেত্রে মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত উদযাপনকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরেও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা, বিশেষ করে শিশুদের মতো সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ জনপরিসরে ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
সামাজিক জীবনে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে। সে বিবেচনায় জন্মদিনের মতো ব্যক্তিগত উপলক্ষকে শিশুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগ মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার একটি উদাহরণ।
এ ধরনের আয়োজনের প্রকৃত তাৎপর্য শুধু একটি দিনের আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিশুদের প্রতি যত্ন, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মধ্যেই এর গুরুত্ব নিহিত। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি বিভিন্ন উপলক্ষে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে তাদের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি সহযোগিতার নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুদের সঙ্গে জন্মদিন পালন করে এইচ এম রহমাতুল্লাহ পলাশ যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন, তা সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিকতার গুরুত্বকে সামনে এনেছে। ব্যক্তিগত আনন্দকে অন্যের আনন্দের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার এই উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চাকে আরও উৎসাহিত করবে—এমন প্রত্যাশা করছেন অনেকে।