
নিজস্ব প্রতিবেদক: কালিগঞ্জ উপজেলার মহেষকুড় গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে একটি মুদি দোকানের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা ও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা শেখ শোকর আলীর ছোট ছেলে শেখ তাজিম (ওরফে টেম্পু)-এর বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করলেও ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেষকুড় তিন রাস্তার মোড়ে শেখ তাজিমের একটি মুদি দোকান এবং একটি অনুমোদনহীন পানির ফিল্টার রয়েছে। অভিযোগ আছে, দোকানের ব্যবসা মন্দা হওয়ায় তিনি দোকানটিকেই ইয়াবা বিক্রির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। এছাড়া পানির ফিল্টারের পেছনের নির্জন স্থানে সহযোগীদের নিয়ে নিয়মিত মাদকসেবন করতেন বলেও দাবি স্থানীয়দের। পরে বিষয়টি জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর নজরে এলে বর্তমানে এক প্রবাসী (শাওন) এর ফাঁকা বাড়িকে মাদক সেবনের আড্ডা হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী এসব অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শেখ তাজিমের বিরুদ্ধে শুধু মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগই নয়, অগ্নিসংযোগ, চাঁদাবাজি, নারী উত্ত্যক্ত, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এসব কারণে অনেকে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। তাদের আশঙ্কা, প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে হয়রানি বা ক্ষতির শিকার হতে পারে। তাদের দাবি, তাজিমের আপন বড় ভাই আজিমের সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) সরঞ্জাম চুরির প্রতিবাদ করায় তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তাজিম। এরপর থেকে বড় ভাই নিজ বাড়িতে বসবাস করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে তার বড় ভাই আজিমের স্ত্রী বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানাতে একটি মামলা দায়ের করে এবং সেই মামলায় তাজিম দীর্ঘ দিন হাজত বাস করেছিল।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শেখ তাজিমের বিরুদ্ধে একাধিক জিআর ও নন-জিআর মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে কালিগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী উত্ত্যক্ত, ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ দাবি, চুরি, হত্যার হুমকি এবং সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগকারীদের পায়েধরে সমঝোতা ও থানায় মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে আইনি জটিলতা এড়িয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট অভিযোগপত্র ও মামলার নথির কপি এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষণে আছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, তাজিম এলাকায় ‘টেম্পু’ নামে বেশি পরিচিত। তার ব্যবহার এবং কর্মকান্ডের জন্য এলাকার সকলে তাকে এড়িয়ে চলে। সে সবসময় মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
এবিষয়ে তাজিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য নাদিয়ে এই প্রতিবেদককে বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করেন। ইতো মধ্যে এই প্রতিবেদক সাতক্ষীরা সদর থানার সহযোগীতায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
এ বিষয়ে ১১ নম্বর রতনপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো: শহিবুল্লাহ বলেন, "গত সপ্তাহে তাজিমের বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। আমরা সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।"
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাদের মতে, মাদক ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
তাজিমের আরো বিস্তারিত নিয়ে আসছি আগামি পর্বে দেখতে চোখ রাখুন দৈনিক সাতনদী পত্রিকার পাতায়।
তাজিমের পূর্বের প্রকাশিত সংবাদের লিংক : পড়তে ক্লিক করুন