অনলাইন ডেস্ক : আর মাত্র এক দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাত পোহালেই ভোটের তোড়জোড় শুরু। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। এবার সময় জয়-পরাজয়ের হিসাব মিলানোর।
এবারের নির্বাচনে যদিও নারী প্রার্থী কম, তবুও প্রচার-প্রচারণা ও জয়ের সম্ভাবনায় পুরো সময়ে আলোচনায় প্রাসঙ্গিক ছিলেন তাঁরা। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ তালিকা অনুসারে এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থী ৮৩ জন। এর মধ্যে ৬৩ জন বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং ২০ জন নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টিতেই ১৭ জন নারী প্রার্থী, ঢাকার বাইরে রয়েছেন ৬৭ জন।
ঢাকায় সবচেয়ে আলোচিত ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা, ঢাকা-৮ আসনে মেঘনা আলম, ঢাকা-১২ আসনে তাসলিমা আখতার, ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম, ঢাকা-১৯ এ দিলশানা পারুল ও ঢাকা-২০ আসনে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনীম।
ভিন্নধর্মী প্রচার-প্রচারণা ও নতুন ধারার রাজনীতি গড়ে তোলার ইশতেহার নিয়ে পুরো সময়জুড়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে কাজ করে গেছেন তাসনিম জারা। শুরুতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হয়ে নির্বাচন করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
নির্বাচনী গণসংযোগে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমাদের দেশকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ এসেছে।
তাই নিজের জায়গা থেকে যতটুকু পারি পুরনো রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তনে কাজ করতে চাই।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে ঢাকা-১৪ আসনে লড়ছেন সানজিদা ইসলাম। ঢাকা-১৪ আসনকে একটি সন্ত্রাস, মাদক ও দখলবাজমুক্ত নিরাপদ ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার ইশতেহার নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ঢাকা-১৯-এ এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল। নির্বাচনী গণসংযোগে তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখি, যেখানে নারীরা বসে নারীদের চায়ের দোকানে আড্ডা দেবে।
ঢাকার বাইরে আসনগুলোতে আলোচিত নারী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা, ফরিদপুর-২-এ বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ আহমেদ, বরিশাল-৫-এ বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জাসদের প্রার্থী তানিয়া রব এবং নেত্রকোনা-৪ আসনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী জলি তালুকদার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এবারের নতুন চমক হিসেবে রয়েছে বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত রুমিন ফারহানা নিজ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকা সত্ত্বেও দল থেকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় জোটের প্রার্থীর জন্য।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীদের থেকে অনুদান নিয়ে নির্বাচনী ব্যয়ের টাকা সংগ্রহ করেছেন আলোচিত প্রার্থী বরিশাল-৫-এর মনীষা চক্রবর্তী। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রমজীবী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা, বিনামূল্যে গরিবদের চিকিৎসার কারণে বেশ পরিচিত তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো কোটিপতির কাছে মাথা বিক্রি করে নির্বাচন করতে চাই না। আমরা কালো টাকা ও দুর্নীতির বাইরে গিয়ে স্বচ্ছতা ও সততার রাজনীতি করি।’
বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও পাঁচবারের এমপি চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে নায়াব ইউসুফ আহমেদ ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেন, ‘দেড় শ বছর ধরে আমার পরিবার এই ফরিদপুরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। আমরা কোনো দিন আপনাদের রেখে পালিয়ে যাইনি।’
‘জাল যার, জলা তার’—এই স্লোগান নিয়ে হাওরের মানুষের অধিকার আদায়ে লড়ছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী জলি তালুকদার। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেন, এবার সবাই শ্রমিক, মেহনতি, কৃষক, মানুষের কাস্তে মার্কায় ভোট দিয়ে নীরবে বিপ্লব ঘটিয়ে দিন। নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে। সারা দেশের নারী প্রার্থীদের মধ্যে কে কে জনগণের ভোটে জাতীয় সংসদে যাবেন, তা জানা যাবে আর দুই দিন পরই।