নিজস্ব প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ভালুকা উপজেলার ১০ নম্বর হবিরবাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পদ বাগিয়ে নিতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব মহসিন সরকার সবুজ। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম চলাকালে ইউনিয়নের সভাপতি প্রার্থী এবং উপজেলা কমিটিতে সদস্য পদ পাওয়ার জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন তিনি। তবে তার অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মহসিন সরকার সবুজ উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মোরশেদ আলমের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবু সাঈদ জুয়েলের ব্যবসায়িক পার্টনার।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন হবিরবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সভাপতি হেলিম মণ্ডলের ছেলে ও যুবদল সভাপতি আবু সাঈদ জুয়েলকে সঙ্গে নিয়ে মহসিন সরকার সবুজ 'বন্ধন' নামের একটি সংস্থা গঠন করেন। হাবিব মার্কেটের দোতলায় অফিস খুলে সংস্থাটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সবুজ। সাধারণ মানুষের সেই অর্থ আত্মসাৎ করেই তিনি রাতারাতি বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক বনে যান।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরিচালনা (ম্যানেজ) করে ক্ষমতার দাপট দেখাতে মহসিন সরকার সবুজ ১০ নম্বর হবিরবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। একই সাথে উপজেলা কমিটিতেও পদ পেতে লবিং চালাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এম. এ. ওয়াহেদসহ আহ্বায়ক কমিটির অন্য দায়িত্বশীলরা সবাই অত্যন্ত দক্ষ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। অর্থের বিনিময়ে কোনো ভূমি দালাল বা অরাজনৈতিক ব্যক্তির হাতে যেন দলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা। বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দিলে হবিরবাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের রাজনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ সমর্থক ও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।