
বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে একের পর এক মিথ্যা ঘোষণায় আনা আমদানিকৃত পণ্য চালান আটকের ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের রহস্যময় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার (জেসি) সাঈদ আহম্মেদ রুবেলের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রকে সরাসরি সহায়তার অভিযোগ উঠেছে।
কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ, ২০২৬) রাতে বন্দরের ৩৭নং শেডে ১০০ প্যাকেজ 'বেকিং পাউডার' আমদানির ঘোষণা দিয়ে একটি চালান আনলোড করা হয়। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে সেখানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় উন্নতমানের শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকস ও কেমিক্যাল পাওয়া যায়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ এই জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা চালায়। পণ্য চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘মেসার্স হুদা ইন্টারন্যাশনাল’।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই শুল্ক ফাঁকির মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার সাঈদ আহম্মেদ রুবেল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিএন্ডএফ প্রতিনিধি জানান, বেনাপোলের চিহ্নিত শুল্ক ফাঁকিবাজ ছোট আঁচড়ার কামাল, যশোরের আজিম, পুটখালীর মাস্টার হাদী, সামাদ ও জাফরসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে নিয়মিত আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন এই কর্মকর্তা। বিনিময়ে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
তথ্য বলছে, গাজীপুর গ্রামের মাসুদ রানা (যিনি হুদা ইন্টারন্যাশনালের কর্মচারী ও অ্যাসেসমেন্ট শাখায় কর্মরত) এবং জেসি রুবেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’-এর সাথে এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) লভ্যাংশের চুক্তিতে এই অবৈধ চালানটি ভারত থেকে আনেন। এই প্রক্রিয়ায় তাদের অন্যতম সহযোগী ছিলেন ৩৭নং শেড ইনচার্জ নূর আমিন।
এটিই প্রথম নয়; গত বছরের ২২ অক্টোবর (২০২৫) একই সিএন্ডএফ এজেন্ট (হুদা ইন্টারন্যাশনাল) ১৩ কোটি টাকা মূল্যের ১০ লাখ ৮০ হাজার পিস জিলেট ব্লেড মিথ্যা ঘোষণায় এনেছিল। কাস্টমস আইন অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল ও জেল-জরিমানার বিধান থাকলেও জেসি রুবেলের অদৃশ্য সুপারিশ ও বিপুল অংকের ঘুষের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি সে যাত্রায় বেঁচে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানিয়েছেন, জেসি রুবেলের জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদের সঠিক তদন্ত করলে সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে। তারা ৬ কোটি টাকার এই চালান আটকের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।