আমিনুর রহমান: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) মো. আব্দুল মালেকের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত করেছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল হোসেন।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গত ১৮ আগস্ট সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে ওই শিক্ষকের নিয়োগকালীন শিক্ষাগত যোগ্যতা, একই সাথে তিনি সমাজবিঞান বিষয়ে নিয়োগ পেলেও এমপিওভুক্তি হয়েছেন ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
বিষয়ে, এছাড়া প্রথম টাইম স্কেল পাওয়ার ১৯ বছর পর বিএড স্কেল গ্রহণ এবং এমপিও সিটে অন্য বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগের সময় শিক্ষক আব্দুল মালেকের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা (বিএ পাস) ছিল না। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ যাবত
গৃহীত অর্থ সরকারী চালানের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি বলে
বিষয়ে চিঠি দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, প্যাটার্ন বহির্ভূত নিয়োগ পাওয়ার পর ওই শিক্ষককে ইসলাম ধর্ম বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত দেখানো হয়। তবে এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এমপিও সীটে তাঁকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত।
এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী প্রথম টাইম স্কেল পাওয়ার পর পরবর্তীতে বিএড স্কেল গ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন, বিভিন্ন দপ্তরে তদবির ও জালিয়াতির মাধ্যমে ওই শিক্ষক বিএড স্কেল গ্রহণ করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন।
লিখিত অভিযোগে মো. আব্দুল মালেকের শিক্ষা জীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ থাকা এবং সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা ভোগের অভিযোগ তুলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তদন্ত করেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত করে যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”অন্যদিকে
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুর মোহাম্মদ পাড় বলেন অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা মিটিংয়ের মাধ্যমে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।