
অনলাইন ডেস্ক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শের-ই বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হলের ৪১৩ নম্বর কক্ষ থেকে বুধবার (১৮ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়া থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজন মরদেহটি উদ্ধার করেন।
নিহত অরুপ রতন (কনিস্ক মাঝি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকায়।
এ কে ফজলুল হক হল প্রশাসন ও নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে প্রশাসন। ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাসায় চলে গেলেও হলে ছিলেন অরুপ রতন। হলের ৪১৩ নম্বর কক্ষে একাই ছিলেন তিনি।
বুধবার বেলা ২টা নাগাদ তার রুমে নক করেন সামনের রুমের এক শিক্ষার্থী। অনেকক্ষণ পেরিয়ে গেলেও সাড়া না পেয়ে ওই শিক্ষার্থী আরও একজনকে ডেকে আনেন। তখন দুজন একত্রে নক করলেও কেউ ভেতর থেকে সাড়া না দেওয়ায় জানালার গ্লাস ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। এরপর দরজা ভেঙে শিক্ষার্থীরা ভেতরে প্রবেশ করেন। সে সময় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক জানান, হলের কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা আগে ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বেলা ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা আমাকে বিষয়টি জানায়। ২টা ১০ মিনিটের দিকে আমি তার কক্ষে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে আমরা আশুলিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করি। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা যাবে বলে পুলিশ আমাদেরকে জানিয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, এখনই ঘটনার বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।’
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে লাশ উদ্ধার করেছি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমরা এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারছি না।’