সংবাদদাতাঃ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা বাজারে এক ছাত্রদল নেতাকে অপহরণ করে আটকে রেখে নির্যাতন ও নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে সাতক্ষীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. আলী হোসেন (২১)।
অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বাঁশদহা গ্রামের মো. নাজমুল ইসলাম (৪৫), তার ছেলে মো. নাইমুর রহমান (২২), মো. সাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫), আবু জাফর (৩৯), ঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান (৫০), কুশখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোরশেদ (৪৫), কুলিয়াডাঙ্গা গ্রামের মো. রাজু (২৫), বাঁশদহা গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৩৫) এবং সাতক্ষীরা পৌর তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান খোকন (৩৮)-কে।
লিখিত অভিযোগে আলী হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি পায়রাডাঙ্গা ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ছাগল কেনার উদ্দেশ্যে বাঁশদহা বাজারে গেলে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নাজমুল ইসলামের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে জোরপূর্বক একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং হাত-পা বেঁধে লোহার রড, হকি স্টিক ও জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা তার কাছে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা, প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন এবং প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। পরে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখার পর সুযোগ পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে তিনি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।