

হাবিবুর রহমান: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ, চাল-গমের ৫০% ই লোপাট হচ্ছে সাতক্ষীরায়। জেলার ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘুষ-দুর্নীতির মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে গত ৯ এপ্রিল (২০২৫-২০২৬) চলতি অর্থ বছরে সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য ৪,৪৬,২৪,৫৫৩.১২ (চার কোটি ছেচল্লিশ লক্ষ চব্বিশ হাজার পাঁচশত তিপ্পান্ন দশমিক এক দুই টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়| বরাদ্দ দেয়া এই টাকা আশাশুনি উপজেলার ৫৯,২৪,৯২৯.৭৮, দেবহাটা উপজেলার২১,১৬,৬৯৯.৬৫, কলারোয়া উপজেলার ৩৯,৮০,৪১৩.৫২, কালীগঞ্জ উপজেলার ৫৫,২২,৩৮৫.২৬, শ্যামনগর উপজেলার ১,৩৫,৫০,১৪৬.৯৪ এবং তালা উপজেলার ৫৭,৭৭,৫২৮.৪৮ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বরাদ্দকৃত এই অর্থ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলার ৭টি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে| এই অফিসের কর্তা ব্যক্তি উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বর এবং সরকার দলীয় ও বিরোধীদলীয় রাজণৈতিক ব্যক্তিরা প্রকল্প কমিটির সভাপতি কিংবা সদস্য। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা প্রায় সকলে দূর্নীতির সাথে জড়িত।
প্রথমত জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা দূর্ণীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় স্থানীয় নেতারা প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্য। তারা কোন কোন ক্ষেত্রে টোটাল কাজ না করেই ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে সমুদয় অর্থ লোপাট করেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ৪০% থেকে ৫০% অর্থ ব্যয়ে প্রকল্প সমাপ্ত করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্প কমিটির সভাপতি-সদস্যরা যে পরিমাণ টাকা প্রকল্প থেকে লোপাট করেছে তার ৫০% দিতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। ঘুষ বাণিজ্যের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন জেলা ডিআরআরও (জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন) অফিসের দুই কর্তা ব্যক্তি। এখানে ডিআরআরও হচ্ছে মোঃ আলাউদ্দীন এবং এই অফিসের অন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তা হচ্ছেন এ. ডি.সি বিষ্ণুপদ পাল( সাবেক) , শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন( বর্তমান)।
এই অফিসের অপর প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন উচ্চমান সহকারী বাবলু রেজা। তার বাড়ী যশোর জেলায়। তিনি কালিগঞ্জ, দেবহাটা হয়ে সর্বশেষ জেলা অফিসে থিতু হয়েছেন। আছেন এখানে বেশ কয়েক বছর। জেলা ডিআরআরও কে চালান তিনি। ডিআরআরও কোন নির্দেশনা দিলে সে তা না মেনে ডিআরআরও কে ডিটেক্ট করেন| এজন্য প্রচার আছে জেলা ডিআরআরও অফিস চালায় বাবলু রেজা।
জেলার সাত উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কালেকশন হওয়া ঘুষের একটা নির্দিষ্ট টাকা বাবলু রেজা কালেকশন করে থাকেন জেলা অফিসের জন্য| তবে এই ঘুষ বাণিজ্যের নেপথ্যে থেকে কলকাটি নেড়েছেন তৎকালীন এ ডিসি বিষ্ণুপদ পাল, এ.ডি.সি শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন(বর্তমান) ও ডি আর আরও মো. আলাউদ্দীন।
সাতনদীর অনুসন্ধানে উঠে আসা দূর্নীতির চিত্রে দেখা গেছে,
প্রথমতঃ গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষ (টি.আর) খাতে যে সব কাজ করা হয় তা হলো মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, স্কুল-কলেজ, মন্দির, শ্বশ্মান, ড্রেন, নালা নিবন্ধনকৃত ক্লাব ও জনকল্যাণ মূলক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ।
দ্বিতীয়তঃ গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা নগদ অর্থ)| সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৫০ লক্ষ এবং সর্বনিম্ন বরাদ্দ ২ লক্ষ| এক্ষেত্রে প্রকল্প নেয়া হয় মাটির রাস্তা, খাল, পুকুর খনন ও পুনঃ খনন ও মাঠ ভরাট।
তৃতীয়তঃ গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিখা-(খাদ্য শস্য চাল) এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বরাদ্দ ৪ মেঃ টন থেকে ৫ মেঃ টন। এক্ষেত্রে মাটির রাস্তা, খাল, পুকুর খনন ও পুনঃখনন ও মাঠ ভরাট এর কাজ করা হয়।
চতুর্থতঃ গ্রামীণ অবাকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-খাদ্যশস্য গম) সর্বোচ্চ ৫ মেঃ টন থেকে সর্বনিম্ন ৪ মেঃ টন পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়া হয়। এই খাতে মাটির রাস্তা, খাল, পুকুর খনন ও পুনঃখনন এবং মাঠ ভরাটের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
স্মরণকালের এই মহা দুর্ণীতির বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া দেননি এডিসি শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, বিষ্ণুপদ পাল (সাবেক) এবং ডিআরআরও মো. আলাউদ্দীন। সর্বশেষ তাদের হোয়াইটঅ্যাপ এ ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তাতে সাড়া দেননি তারা।
উল্লেখ্য: এডিসি শেখ মঈনুল ইসলাম অতিসম্প্রতি ডি আর আর ও কার্যালয়ের দ্বায়িত্ব পালন করছেন ।সাবেক এডিসি বিষ্ণপদ পাল ঘুষ বানিয্যের বাটোয়ারার টাকা নিয়ে বদলি হয়ে চলে গেছেন সম্প্রতি ।