
বিনোদন ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রী নুসরাত জাহান ও মিমি চক্রবর্তীর বন্ধুত্ব বরাবরই আলোচনায়। একসময় একসঙ্গে সিনেমা, রাজনীতিতে পথচলা, পরবর্তী সময়ে দূরত্ব—সব মিলিয়ে তাদের সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। আজ মিমি চক্রবর্তীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ভারতীয় একটি সংবাদপত্রে বন্ধুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে খোলা চিঠি লিখেছেন নুসরাত।
চিঠির শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের কত স্মৃতি। বন্ধুত্বের গোড়ার কথা আবছা। সম্ভবত “যোদ্ধা” সিনেমার শুটিং থেকে। আমরা তখন এসভিএফ প্রযোজনা সংস্থায় কাজ করি। এতে আমার একটি আইটেম নাচ ছিল। প্রথম দেখা প্রযোজনা সংস্থার অফিসে। সিনেমায় আমরা বন্ধু। একসঙ্গে নাচের মহড়া দিতাম। মহড়ার পর আমি মিমির ঘরে, নয়তো মিমি আমার ঘরে। সেখান থেকেই বন্ধুত্বের শুরু। তখন কম করে ১৫ দিনের আউটডোর শুটিং থাকত। ওই ১৫ দিন আমরা ছিলাম পরস্পরের ছায়া। সেই সময় থেকেই বন্ধুত্ব এমন জায়গায় পৌঁছায় যে পরস্পরের গোপন কথা, গোপন ব্যথাও অজানা থাকেনি।’
নুসরাত লিখেছেন, ‘প্রতিদিন রাতে আমাদের কথা হতো। বন্ধুত্বও যেন সেভাবেই পাপড়ি মেলেছিল। সকালের নাশতা থেকে রাতের খাবার—একই মেনু। আর গসিপিং? তার মাত্রা আলাদা। তবে আমরা কারও বিপক্ষে কিছু বলতাম না। নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। দুই বন্ধু মিলে কত দেশে ঘুরতে গিয়েছি। লাস ভেগাস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের স্মৃতি বিশেষভাবে মনে পড়ে।’
বর্তমানের মিমিকে নিয়ে নুসরাত লিখেছেন, ‘এখনকার মিমি অনেক পরিণত। আমি “বাচ্চা” মিমিকেও দেখেছি। সেই ছেলেমানুষ মিমি রাগ করলে ঝগড়া করত। আমাদের মধ্যেও ঝগড়া হয়েছে, টিমের সামনে তীব্র তর্কও করেছি। কিন্তু পরদিন সকালেই সব স্বাভাবিক হয়ে যেত।’
দুজনের সম্পর্কে তৈরি হওয়া দূরত্বের প্রসঙ্গ টেনে নুসরাত বলেন, ‘অনেকে বলেন, দুই মেয়ে আজীবন ভালো বন্ধু থাকতে পারে না। আমি বলি, পারে। অবশ্যই পারে—যদি বন্ধুত্ব গভীর হয়। আমরা এখন নিজেদের মতো ব্যস্ত। আমার সন্তান আছে, তাকে সামলাতে দিনের বড় অংশ কেটে যায়। মিমিও নিজের মতো সংসারী। এখন বলতে পারি, আমাদের বন্ধুত্ব কোনো দিন নষ্ট হওয়ার নয়। মাঝেমধ্যে দূরত্ব বেড়েছিল, কিন্তু বন্ধুত্বের মৃত্যু ঘটেনি।’
নুসরাত আরও বলেন, ‘কাকতালীয়ভাবে আমরা দুজনই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলাম। ওর নাম আগে ঘোষণা হয়েছিল। ফোন করে আমাকে জানিয়েছিল মিমি। একসঙ্গে সংসদে গিয়েছি। সেখানে কোনো দুষ্টুমি করিনি। আসলে মিমির ভেতর ও বাহির এক নয়। আমি যেভাবে ওকে চিনি, অন্যরা সেভাবে চেনেন না।’
চিঠির শেষে নুসরাত লিখেছেন, ‘মিমির অনেক জন্মদিনের সাক্ষী আমি। আমরা একসঙ্গে পার্টি করেছি। শেষে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি, মিমি যেন একটুও না বদলায়। যেমন আছে, তেমনই থাকুক। সুখে থাকুক, শান্তিতে থাকুক। আমরা পরস্পরের ভালো-মন্দ সময়ের সাক্ষী। মিমিকে আগলে রাখার দায়িত্ব আমার। টালিউড আমাদের “বোনুয়া” নাম দিয়েছে। তুই নিশ্চিন্তে থাক, আজীবন তোর পাশে থাকবে তোর বোনুয়া।

