
জিয়াউর রহমান শ্যামনগর থেকে: বনবিভাগ পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে প্রতিবছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম। আজ পহেলা এপ্রিল ২০২৬ থেকে আগামী ৩০ মে ২০২৬ পর্যন্ত দুই মাসব্যাপী মৌয়ালরা সরকারি রাজস্ব প্রদান করে সংশ্লিষ্ট বন অফিস থেকে অনুমতি (পাস) নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৌয়ালদের নির্বিঘ্নে মধু সংগ্রহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মৌয়ালরা।
উপকূলীয় মুন্সিগঞ্জ, গাবুরা, কলবাড়ী ও মরাগাং গ্রামের পেশাদার মৌয়াল সাহেব আলী, আব্দুল্যাহ, আলীম ও রনজিত জানান, সম্প্রতি সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে কোনোভাবে নিজেদের রক্ষা করা গেলেও বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও জীবিকার তাগিদে পরিবার-পরিজন রেখে তাদের বনে যেতে হচ্ছে।
তারা আরও জানান, এবছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সুন্দরবনে খলিষা ফুলের ভালো ফলন হয়েছে, ফলে মধুর উৎপাদনও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে খলিষা ফুলের মধু প্রতি কেজি ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ মশিউর রহমান বলেন, চলতি বছরে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,১০০ কুইন্টাল এবং মোম সংগ্রহ ৬০০ কুইন্টাল। প্রতি কুইন্টাল মধুর জন্য ১,৬০০ টাকা এবং মোমের জন্য ২,২০০ টাকা হারে রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মধু থেকে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং মোম থেকে ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতি নৌকায় সর্বনিম্ন ৪ জন এবং সর্বোচ্চ ৮ জন মৌয়াল থাকতে পারবেন। বনদস্যুদের বিষয়টি মাথায় রেখে কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ টহলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আক্রমণ এড়াতে মৌয়ালদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ৩৬৪টি পাসের মাধ্যমে ২,৪৭১ জন মৌয়াল সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন এবং রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ৮০০ টাকা। এবছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বন বিভাগ।