মেহেদী হাসান: খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বহুল আলোচিত রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ জুলাই) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ আদালতের বিচারক মোঃ খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে মামলার অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খুরশীদ আলম, সালাম এবং খায়রুল। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ শাহ আলম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামের বাজার এলাকায় নিজ দোকানের কাছে অবস্থান করছিলেন রেজাউল শেখ। এ সময় পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা চার দুর্বৃত্ত হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে।
রেজাউলের ছোট ভাই তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিনই নিহতের ছোট ভাই মেঝবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ঝালবাড়ি এলাকার কলমবক্সের ছেলে আব্দুস সালাম, তার দুই ছেলে খুরশীদ আলম (৩৫) ও খায়রুল শেখ (২৮) এবং একই এলাকার কালা বাবুর ছেলে এরশাদকে আসামি করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, পৈত্রিক সম্পত্তি ও দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ গোলাম রসুল ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালত প্রমাণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে তিন আসামির সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে অপর আসামি এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর নিহতের পরিবার ও স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন পর হলেও তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।