মেহেদী হাসান: খুলনা বিভাগে প্রাণঘাতী হামের সংক্রমণের মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুজ্বর। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, আর এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।সোমবার (২০ জুলাই) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ ডেঙ্গু প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই সকাল পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গুতে মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ১ হাজার ৫১৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১৭৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ জনকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে- বাগেরহাটে: ১৫ জন, খুলনা জেলায়: ১১ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে: ৭ জন, মাগুরায়: ৩ জন, নড়াইলে: ৩ জন, যশোরে: ২ জন ও ঝিনাইদহে: ২ জন। অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা জেলা এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ সময়ে কোনো নতুন রোগী ভর্তি হয়নি।
মোট আক্রান্তের হিসাব- বাগেরহাট: ৫০৮ জন, খুলনা জেলা: ২৯৯ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ২৬৪ জন, যশোর: ১৭২ জন, নড়াইল: ৯৬ জন, মাগুরা: ৫৪ জন, কুষ্টিয়া: ৪৩ জন, মেহেরপুর: ৩৯ জন, ঝিনাইদহ: ২২ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১৬ জন, সাতক্ষীরা: ৫ জন ও চুয়াডাঙ্গা: ০ জন।
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে- বাগেরহাটে: ৬৮ জন, খুলনা জেলায়: ৩৯ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে: ৩৬ জন, যশোরে: ১৪ জন, কুষ্টিয়ায়: ৬ জন, নড়াইলে: ৬ জন, মাগুরায়: ৫ জন, ঝিনাইদহে: ২ জন ও সাতক্ষীরায়: ১ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে- এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও, পানি জমে থাকতে না দেওয়া, জ্বর দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়া ও হামের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক।
এদিকে, খুলনা বিভাগে হামের সংক্রমণও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই সকাল পর্যন্ত বিভাগে ৮ হাজার ১৫১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক রোগীর সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই সময়ে ডেঙ্গু ও হামের মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তাই এখনই সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।