মেহেদী হাসান, খুলনা থেকে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক দিনের সফর ঘিরে উৎসবমুখর ছিল খুলনা ও বাগেরহাট। সড়কের দুই পাশে মানুষের ভিড়, ফুলেল শুভেচ্ছা আর বর্ণিল সাজে নতুন রূপে দেখা যায় খুলনা নগরীকে। সফরে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে সফর শেষে খুলনাবাসীর প্রশ্ন- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার বার্তা এলেও দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কী পেল এই নগরী? বন্ধ শিল্পকারখানা, বেকারত্ব, চিকিৎসাসংকট, জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকটের পাশাপাশি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডমুক্ত নিরাপদ নগরীর প্রত্যাশা কি পূরণ হবে?
নিরাপত্তার এই উদ্বেগের মধ্যেই সফরের দিন দুপুরে ডুমুরিয়ার ১২ নম্বর রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম শেখের ছেলে তরিকুল ইসলাম শেখকে (৩৮) একটি চায়ের দোকানে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও সামনে এনেছে। নগরবাসী চান, ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ কেউ যেন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস কিংবা হত্যার আতঙ্কে না থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম বড় প্রাপ্তি মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। একই সফরে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সুফল পেতে বন্দর কেন্দ্রিক সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগের উন্নয়নও জরুরি। বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধনের পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
তৃণমূল থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার এ উদ্যোগ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক সংস্কার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা, এসব কার্যক্রম যেন সফর কেন্দ্রিক না থেকে নিয়মিত নাগরিক সেবায় রূপ নেয়। একসময় দেশের অন্যতম শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত খুলনায় বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় দাবি।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা বন্ধ কলকারখানা চালু, যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা বন্দরের বড় প্রকল্প ও ক্রীড়া কর্মসূচির মতো দৃশ্যমান উদ্যোগ এসেছে। কিন্তু খুলনা নগরীর জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানি, চিকিৎসা, পরিবহন, শিল্পায়ন ও নিরাপত্তার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে নতুন নির্দিষ্ট প্রকল্প বা সময়সীমাবদ্ধ ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে সফর ঘিরে তৈরি হওয়া প্রত্যাশা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।