ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় তিনদিনব্যাপী পিআইবির প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে দুইটি ব্যাচের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে-সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি সমাজের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধের একটি অঙ্গীকার। নিজ জেলা হওয়াতে আমি নিজে শ্রদ্ধেয় সিনিয়র সাংবাদিক, সহকর্মী এবং ছোটভাইদের অংশগ্রহণ দেখে অভিভূত।
প্রশিক্ষণের প্রতিটি সেশনে সাংবাদিকদের মনোযোগ, জানার আগ্রহ এবং নতুন বিষয় শেখার আন্তরিকতা ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁরা ধৈর্যসহকারে ক্লাসে অংশ নিয়েছেন, প্রশিক্ষকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেছেন। এই আগ্রহই প্রমাণ করে, নিজেদের আরও দক্ষ ও আধুনিক করে গড়ে তোলার বিষয়ে আমার জেলার সাংবাদিকরা আন্তরিক বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে বসে কথা গুলো বলছিলেন দৈনিক ইত্তেফোকের সাংবাদিক সাইদুর রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং ভুয়া তথ্যের বিস্তারের মধ্যে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। তাই নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা এখন সময়ের দাবি। পিআইবির মতো উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামীতেও আরো রাখবে।
সাংবাদিকতার দক্ষতার পাশাপাশি আরেকটি বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকদের ঐক্য। মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, পেশাগত প্রতিযোগিতাও থাকবে। কিন্তু সাংবাদিক সমাজ যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং পেশাগত সৌহার্দ্য বজায় রাখে, তাহলে পুরো সাংবাদিক সমাজই শক্তিশালী হবে। বিভক্ত সাংবাদিক সমাজ কখনোই গণমাধ্যমের মর্যাদা ও স্বাধীনতাকে সুসংহত করতে পারে না। কিন্তু সাতক্ষীরার সাংবাদিকরা দ্বিধাবিভক্ত। শত চেষ্টা করেও আমরা দুই গ্রুপের সমাপনী অনুষ্ঠান একমঞ্চে করতে পারেনি।
তিনি আরো বলেন,সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের মধ্যে যে শেখার আগ্রহ ও পেশাগত উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা এই প্রশিক্ষণে দেখা গেছে, তা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। এই উদ্দীপনা ধরে রেখে যদি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন, তাহলে জেলার সাংবাদিকতা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং জনগণের আস্থাও আরও দৃঢ় হবে। সাংবাদিকতার প্রকৃত শক্তি একক সাফল্যে নয়, বরং সম্মিলিত দায়িত্ববোধ, পেশাগত দক্ষতা এবং ঐক্যের মধ্যেই নিহিত। এই মূল্যবোধই হোক সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজের আগামী দিনের পথচলার মূল ভিত্তি।