প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১০:০৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
পাটকাঠিতেই লোকসান ঘুচছে পাইকগাছার পাটচাষিদের: রূপালী কাঠিতে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত
প্রমথ সানা, পাইকগাছা থেকে: একসময় যা ছিল নেহাতই তুচ্ছ কিংবা অবহেলিত বর্জ্য। সময়ের বিবর্তনে সেই পাটকাঠিই এখন উপকূলীয় পাইকগাছার কৃষকদের অর্থনীতিতে এনে দিয়েছে নতুন স্বস্তি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে যখন চাষিরা বারবার লোকসানের মুখে পড়ছেন, ঠিক তখনই 'সোনালী আঁশে'র এই 'রূপালী কাঠি' কৃষকের লোকসান সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় অবলম্বন হয়ে উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সড়ক ও খামারগুলোতে সারি সারি সাজিয়ে শুকানো হচ্ছে পাটকাঠি। বর্তমানে গৃহস্থালির বাইরেও শহরাঞ্চলে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পাটকাঠির কদর বেড়েছে বহুগুণ। একদিকে সিলিন্ডার গ্যাসের উচ্চমূল্য, অন্যদিকে সহজে জ্বালানো ও দ্রুত রান্নার সুবিধার কারণে গৃহিণীদের কাছে এর চাহিদা বেশ তুঙ্গে।
তবে ব্যবহার কেবল উনুনেই সীমাবদ্ধ নেই। ঐতিহ্যগতভাবে ঘরের বেড়া ও পানের বরজের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হলেও আধুনিক শিল্পখাতে পাটকাঠির বহুমাত্রিক ব্যবহার শুরু হয়েছে। পার্টিকেল বোর্ড তৈরি, কলকারখানার ব্যবহৃত জ্বালানি এবং পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত বিশেষ ছাই বা ‘চারকোল’ এখন প্রসাধন সামগ্রী ও প্রিন্টিং কালির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। ফলে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এর বাজারদর।
গোপালপুর গ্রামের পাটচাষী কেরামত সরদার নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, "সার, বীজ ও শ্রমিকের বাড়তি দামের কারণে পাটের আঁশ বিক্রি করে উৎপাদনের আসল খরচ তোলাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আঁশে কোনো লাভ পাই না। তবে এখন ছোট আঁটি বা বোঝা ৫০ টাকায় অনায়াসে বিক্রি হচ্ছে। পাটকাঠির এই ভালো দামই মূলত আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছে।"
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, পাটকাঠিকে এখন আর অবহেলিত পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পার্টিকেল বোর্ড ও চারকোল কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এর চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। পাইকগাছার পাটের মান যেমন ভালো, তেমনি পাটকাঠি থেকেও চাষিরা ভালো বাড়তি আয় করছেন, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
কালের পরিক্রমায় পাইকগাছায় পাটের অর্থনীতি এখন আর কেবল আঁশ নির্ভর নয়। আঁশের লোকসান ভুলে কাঠির শক্ত ভিতের ওপর ভর করেই নতুন করে অর্থনৈতিক স্বপ্ন বুনছেন প্রান্তিক চাষিরা।
https://satnadee.com/