পাইকগাছা প্রতিবেদক :পাইকগাছায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি জোরপূর্বক জবরদখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। শান্তিপূর্ণ ভাবে নালিশি জমির দখল বুঝে পেতে প্রতিপক্ষ জিল্লুর রহমান গংদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান জিএম কামরুজ্জামান। বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য থানার ওসি কে নির্দেশনা দিয়েছেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এনিয়ে এলাকায় দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার গড়ইখালী গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর আহমদ গাজীর ছেলে জিএম কামরুজ্জামান ৫ টি কোবলা দলিল মূলে গড়ইখালী মৌজায়, এসএ ৬৯,৭০ও ৭২, বিআরএস - ৫৭১ ও ৫৮২ খতিয়ানের এসএ ১৮৩, ১৮৬, ১৮২, ৩৭০, ৩৬৫, ৩৬৬, ১৯১,১৮৫ ও ১৮৪ দাগে ১ একর ৯৭ শতক জমি ক্রয় করেন। যার দলিল নং- ১৭৩৬, তাং- ০৬-০৫-২০০৮, জমির পরিমাণ ২০ শতক, দাতা - লিয়াকত আলী। দলিল নং- ৩৮৮৫, তাং- ১৪-১০-২০০৮, জমির পরিমাণ - ২২ শতক, দাতা - মামুদ গাজী। দলিল নং- ৪৭০৭, তাং - ১৭-১২-২০০৮, জমির পরিমাণ - ৩৬ শতক, দাতা - শাহানারা, জাহানারা ও রওশানারা। দলিল নং- ২০৭১, তাং - ১০-০৭-২০১২, জমির পরিমাণ - ৫৬ শতক, দাতা- রশীদ গাজী, মাসুদ গাজী ও আমেনা বিবি। দলিল নং- ১১৪৯, তাং- ১৬-০৪-২০১৩, জমির পরিমাণ - ৬৩ শতক, দাতা- ফরিদা বেগম। ক্রয়ের পর থেকে জিএম কামরুজ্জামান সমস্ত সম্পত্তি শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগ দখল করলেও ৪৮৯ দাগের ১৫ শতক জমি প্রতিপক্ষ মৃত মতিউর রহমান গাজীর ছেলে জিল্লুর রহমান ও তার ছেলে সাইবুর রহমানের সাথে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা সন্তান জিএম কামরুজ্জামান বলেন নালিশি জমি লিয়াকত আলী গংদের নামে বিআরএস রেকর্ড হয়েছে। জমির উত্তর পাশে প্রতিপক্ষ জিল্লুর রহমানের বসতবাড়ি এবং দক্ষিণ পাশে নালিশি জমি পুকুর ও ফসলের ক্ষেত রয়েছে। ২০১০ সালের ছেলে সাইবুরের নামীয় বায়না পত্রের আলোকে প্রতিপক্ষ জিল্লুর রহমান আদালতে মামলা করেন। যে মামলায় ২০২৪ সালে তাদের অনূকূলে ডিগ্রি হয়। ডিগ্রির বিরুদ্ধে পাইকগাছা জজ আদালতে ২১-০৬-২০২৬ তারিখে দেওয়ানী মামলা করা হয়েছে। যার নং ১১৮/২০২৬। কামরুজ্জামান অভিযোগ করেন তাদের আগে আমার দলিল এবং আমাদের অনূকূলে বিআরএস রেকর্ড ও হয়েছে। অথচ প্রতিপক্ষ জিল্লুর রহমান ও তার লোকজন পেশিশক্তি বলে নালিশি ১৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখলে রাখার চেষ্টা করছে। এনিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করা হলে সে সালিসের কোন সিদ্ধান্ত মানেন না। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সবধরনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ স্থানীয় সংসদ সদস্যের শরণাপন্ন হয়েছি। এমপি মহোদয় বিষয় টি থানার ওসির ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জিল্লুর রহমান বলেন, আমি ২০১০ সালে ফরিদা, রশীদ, মাসুদ ও আমেনার কাছ থেকে ১৫ শতক জমি ক্রয় করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি। আদালতের মাধ্যমে আমার অনূকূলে নালিশী জমির ডিগ্রি পরবর্তী দলিল হয়। তিনি বলেন কামরুজ্জামানের দলিল ২০১২-১৩ সালের এবং বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগ দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে বলে তিনি দাবি করেন। দীর্ঘদিনের এই বিরোধ শান্তিপূর্ণ ভাবে নিষ্পত্তি হোক এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন এলাকাবাসী।