প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ৫, ২০২৬, ৯:৫২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৫, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় দূর হচ্ছে পানির সংকট: চলতি শিক্ষাবর্ষেই কৃষি অনুষদে ভর্তি হচ্ছেন ৮০ শিক্ষার্থী

প্রমথ সানা, পাইকগাছা থেকে: উপকূলীয় জনপদ পাইকগাছায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পথে দীর্ঘদিনের প্রধান বাধা অবশেষে দূর হতে চলেছে। ক্যাম্পাসে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই কৃষি অনুষদের চারটি বিভাগে ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে ২৫ একরের এই সুবিশাল সবুজ ক্যাম্পাস।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল পাইকগাছায় অবস্থিত দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়নকাজ ও অবকাঠামো সরজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সুপেয় পানির তীব্র সংকট থাকার কারণেই এতদিন অবকাঠামোগত প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। নব গৃহীত প্রকল্পের আওতায় পরিবেশবান্ধব ‘রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং’ বা বৃষ্টিভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভে রিচার্জ এবং পরিশোধনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই পানি প্রকল্পের কাজ শেষ করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “সুপেয় পানির সংকটই ছিল আমাদের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যে পানি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে তা শেষ হবে। কাজ সম্পন্ন হওয়ামাত্রই আমরা আর বিলম্ব না করে দ্রুততম সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করব।”
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক কৃষি কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত হওয়া ২৫ একর জমির এই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিমধ্যে আধুনিক আবাসিক হল এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদ গবেষণার জন্য দুটি বিশালাকার শেড নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে বাকি অবকাঠামোগত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এই সমন্বয়মূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক আমিরুল ইসলাম কাগজী। সমন্বয়ক আমিরুল ইসলাম কাগজী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার আলো ছড়াতে পাইকগাছার এই দ্বিতীয় ক্যাম্পাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও অবকাঠামো প্রস্তুত করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।” প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে কৃষি অনুষদের অধীনে চারটি পৃথক বিভাগে ২০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি কার্যক্রম এ শিক্ষাবর্ষ থেকেই শুরু করার প্রস্তুতি জোরদারে কাজ চলছে।
সোমবারের এ পরিদর্শনকালে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সাবেক প্রকৌশলী এম এ মতিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে চরম আশাবাদী হয়ে উঠেছেন পাইকগাছাসহ সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল। পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেলে এই দ্বিতীয় ক্যাম্পাসটি দক্ষিণবঙ্গের কৃষি শিক্ষা ও আধুনিক গবেষণার অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।
https://satnadee.com/