মুনসুর হেলাল, নিজস্ব প্রতিনিধি:সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জীবিকার আশায় আবারও বনের পথে ফিরছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হাজারো জেলে-বাওয়ালি। দীর্ঘদিন পর সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের সুযোগ ফিরে পাওয়ায় উপকূলীয় জেলে পল্লিগুলোতে দেখা দিয়েছে কর্মচাঞ্চল্য।
শ্যামনগরের রমজাননগর, মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা ও পদ্মপুকুরসহ সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। বন বিভাগের বৈধ পাস-পারমিট নিয়ে তারা সুন্দরবনে গিয়ে মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য বৈধ বনজ সম্পদ আহরণ করেন। এসব সম্পদ বিক্রির আয়েই চলে তাদের সংসার।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে আয় বন্ধ থাকায় অনেক জেলেকে দিনমজুরি, ছোটখাটো ব্যবসা কিংবা ধার-দেনার ওপর নির্ভর করে সংসার চালাতে হয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে ফেরার সুযোগকে তারা নতুন করে জীবিকা ফিরে পাওয়ার আশার আলো হিসেবে দেখছেন।
সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতিতে জেলেরা নৌকা মেরামত, জাল সংস্কার, দড়ি ও কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম প্রস্তুত এবং খাবার-দাবার সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কয়েক দিনের জন্য প্রয়োজনীয় সব সামগ্রীও নৌকায় তোলা হচ্ছে।
তবে পাস-পারমিট প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে জেলেদের মধ্যে। প্রকৃত জেলেদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহজ ও স্বচ্ছভাবে পাস-পারমিট দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাদের।
জেলেরা জানান, সুন্দরবন তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। তাই বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়েও তারা সচেতন। বিষ দিয়ে মাছ ধরা, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার, অতিরিক্ত আহরণ ও বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও সুন্দরবনে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় শ্যামনগরের জেলে-বাওয়ালিদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, নিরাপদ ও বৈধভাবে মাছ-কাঁকড়া আহরণের সুযোগ পেলে দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কিছুটা কাটিয়ে পরিবারে স্বস্তি ফিরবে।