ওমর ফারুক মুকুল ও মোমিনুর রহমান: ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়ার বিএনপি কর্মী আব্দুর রউফকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সখীপুর কলেজ মাঠে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়া ও ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি সকালে একই উপজেলার দক্ষিণ নাংলা গ্রামের আনারুল ইসলামকে ঘের থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যার অভিযোড়ে দায়েরকৃত পৃথক দুটি মামলায় দেবহাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মুজিবর রহমানের জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস ম-ল এ আদেশ দেন। মুজিবর রহমান(৭৫) দেবহাটা উপজেলার সাংবাড়িয়া গ্রামের মাদার আলীর ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের আব্দুল মাজেদ মোল্লার ছেলে বিএনপি কর্মী আব্দুর রউফকে ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাতে হ্যা-কাপ পরিয়ে চোঁখ বেঁধে মারপিট করে পুলিশ ভ্যানে করে সখীপুর কলেজ মাঠে নিয়ে ডান পায়ে দুটি গুলি করে। পরে তার হাঁটু ও হাঁটুর নীচ থেকে কেটে বাদ দিতে হয়। এ ঘটনায় ভিকটিম আব্দুর রউফ ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দেবহাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবর রহমানকে প্রধান আসামী করে ৪৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০জনকে আসামী করা হয়। আদালতের নির্দেশে ওই সালের পহেলা নভেম্বর মামলাটি(জিআর ৮৮/২৪ দেবঃ) রেকর্ড করে দেবহাটা থানা।অপরদিকে দক্ষিণ নাংলা গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে আনারুল ইসলামকে ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ঘের থেকে ধাওয়া করে ৪০০ গজ দূরে আটকের পর দুই হাতে হাতকড়া পরিয়ে বাম পায়ের হাঁটুতে গুলি করে পুলিশ ভ্যানে করে তুলে নিয়ে যায়। স্বজনরা পরদিন সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আনারুলের লাশ খুঁজে পায়। এ ঘটনায় রাতেই পুলিশ বাদি হয়ে থানায় ১২ নং মামলা করে।২৭ জানুয়ারি পুলিশ হত্যা ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি চুড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। তবে ২০২৪ সালের ২২ আগষ্ট নিহতের ভাই রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে সাতক্ষীরা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি(জিআর-৭২/২৪) দেবহাটা থানায় রেকর্ড করা হয়। দেবহাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মুজিবর রহমানসহ ৫৪ জনের নামে উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১৬ জনকে আসামী করা হয়।সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনউদ্দিন জানান, উপরোক্ত মামলা দুটিতে আসামী মুজিবর রহমান হাইকোর্টের বিচারপতি কেএম জাহিদ সরোয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ থেকে গত ৮ জুলাই আট সপ্তাহের পৃথক অন্তবর্তীকালিন জামিন পান। একই আদেশে তাকে সোমবারের মধ্যেই সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করতে বলা হয়।সে অনুযায়ি মুজিবর রহমান তার আইনজীবীদের মাধ্যমে সোমবার সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। বিচারক বিলাস ম-ল শুনানী শেষে তার জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে শুনানীতে অংশ নেন অ্যাড. মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাড. অজয় সরকার, অ্যাড. ওসমান গণি প্রমুখ।