নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের নোড়া গ্রামে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। জনবসতি, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি মৎস্য ঘেরের একেবারে কাছাকাছি মাটির গভীর থেকে যেভাবে বালু তোলা হচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিধস ও সম্পদহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের জন্য এলাকায় ড্রেজার মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। গভীর থেকে বালু তুলে নেওয়ার ফলে মাটির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের জমি ও বসতভিটায় ধস নামার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ ঝুঁকি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
এলাকাবাসী বলছেন, কয়েকজনের ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের জন্য একটি পুরো জনপদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আজ বালু উত্তোলন করে সাময়িক লাভ হলেও এর খেসারত দিতে হতে পারে সাধারণ মানুষকে। ঘেরের জমি থেকে বালি উত্তোলনের ফলে পাশ্ববর্তী বসতভিটা আর রাস্তা-ঘাটে ধস নামার সম্ভাবনা খুবই বেশি। যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়বে পুরো এলাকার মানুষ।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, জনবসতি ও কৃষিজমির পাশে ড্রেজার বসিয়ে গভীর থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকার কথা নয়। যদি সংশ্লিষ্টদের কোনো বৈধ অনুমোদন না থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠছে কার ছত্রছায়ায় চলছে এসব কার্যক্রম? আর অনুমোদন থাকলে সেটির শর্ত কী, কোথা থেকে কতটুকু বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং জননিরাপত্তা ও পরিবেশের বিষয়গুলো কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে এসব বিষয় প্রকাশ্যে আনা জরুরি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রশাসনিক তৎপরতা নয়, দুর্ঘটনার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। বসতবাড়ি বা কৃষিজমি ধসে পড়ার পর তদন্ত করে লাভ নেই। এখনই সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে বালু উত্তোলনের বৈধতা যাচাই করা দরকার।
তারা আরও বলেন, অনুমোদনবিহীন ভাবে বালু উত্তোলন কিংবা অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ করে পরিবেশ ও জননিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত নয়। ড্রেজার জব্দ, কার্যক্রম বন্ধ এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি বিষয়টি অবিলম্বে আমলে নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করা হোক। বালু উত্তোলনের অনুমোদন, জায়গাটির মালিকানা, উত্তোলনের পরিমাণ এবং পরিবেশ ও জননিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখা হোক। অনুমোদন না থাকলে কিংবা আইনবহির্ভূত কার্যক্রম প্রমাণিত হলে ড্রেজারসহ বালু উত্তোলনের সব সরঞ্জাম জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কয়েকজনের বালুর ব্যবসার লাভের কাছে কি একটি জনপদের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও মানুষের নিরাপত্তা জিম্মি থাকবে? এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।
জননিরাপত্তা, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে এ প্রশ্নও তুলেছেন এলাকাবাসী।