নিজস্ব প্রতিবেদক : পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও রহস্যজনক কারণে বহাল তবিয়তে রয়েছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক সন্ন্যাসী কুমার মন্ডল। দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও নারী কেলেঙ্কারির একের পর এক অভিযোগ উঠলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সাধারন মানুষের মনে । এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করতে তাকে উপর মহলে দৌঁড়ঝাপ করতে দেখা গেছে ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সন্ন্যাসী মন্ডল যেখানেই গেছেন সেখানেই গড়ে তুলেছেন অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজত্ব। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে বিভাগীয় মামলা হয় তার বিরুদ্ধে । এরপর বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাপে পড়ে আশাশুনিতে বদলি হলেও সেখানে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। সর্বশেষ দূর্নীতির কারনে তাকে তালায় বদলী করা হলেও সেখানেও ঘুষ দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছে।
আশাশুনি এলাকার আশরাফ উদ্দীন সরদার ও আব্দুল আলিম বলেন,সন্ন্যাসী মন্ডল আশাশুনিতে থাকাকালে ঘুষ বাণিজ্যের পাশাপাশি একের পর এক নীতিহীন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন ।মৎসজীবী সমবায় সমিতির নিবন্ধন নবায়নের নামে প্রতিবছর সরকারি ফি এর বাইরে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ঘুষ হাতিয়ে নিত সে । এমন জলমহলের সদস্য নয় এমন লোককে মোটংকের টাকার বিনিময়ে সরকারী খালে ইজরা পেতে সহয়তায় করেন তিনি। ঘটনটি নিয়ে তিনি সহ একাধিক মৎসজীবী সমবায় সমিতির সদস্য তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও সন্ন্যাসী মন্ডলের দাপটে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জলমহলকে দুভাগে ভাগ করে দেন ।এরপর তিনি এলাকার কিছু বকাটে লোকজনের পাল্লায় পড়ে তিনি উপজেলা বেহুলা ও সদরের মুনজিত পুর এলাকার দুই নারীর সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়লে তাকে তালায় বদলী করা হয় ।
তালায় বদলি হওয়ার পর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে এনজিও ও সমবায় সমিতিগুলোর ওপর সুদের ওপর ভিত্তি করে ঘুষের টাকার অঙ্ক দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেন।
রহমত আলী, ইবাদুল সানা, রুস্তম আলী সহ একাধিক সমবায় সমিতি পরিচালক অভিযোগ করেন, বার্ষিক নিবন্ধন নবায়নের নামে ফাইলপ্রতি ১০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন সন্ন্যাসী মন্ডল। এর পাশাপাশি মোটাংকের টাকার বিনিময়ে জেলে নয় এমন লোককে তিনি মৎসজীবি সমবায় সমিতিতে অর্ন্তভূক্ত করার মত অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।
খলিষখালী এলাকার মৎসজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি গনেশ বর্মন বলেন, সন্ন্যাসী যোগাদানের পর সমিতি নবায়নের নামে সমিতি প্রতি ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিষয়টি তার অফিসের উর্ধতন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে জানালেও তিনি কোন কর্নপাত করেন না । উল্টো তিনি নির্দেশ বলে তার পক্ষে ছাপাই গান । অতি দ্রুত এই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে অপসারন সহ তার বিরুদ্বে বিভাগীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানান তারা ।
পরকিয়ার অভিযোগ এনে সাতক্ষীরা শহরের মনজিতপুর এলাকার বাসিন্দা রাহুল কুমার সিংহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতা-মন্ত্রীদের সাথে ঘনিষ্ঠতার দাপট দেখিয়ে সন্ন্যাসী মন্ডল হুমকি দিয়ে বলেন ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ফিরে আসছে! আপনি পারলে আমার বিরুদ্ধে যা করার করে নিয়েন। এর আগেও অনেকে চেষ্টা করেছে, আমার কিছুই করতে পারে নাই।
নাম না জানানোর শর্তে তালা উপজেলার সমবায় অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন,সন্ন্যাসী মন্ডল আশাশুনিতে থাকাকালে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তার ১২ থেকে ১৮ মাসের টিএ/ডিএ পর্যন্ত আটকে দেওয়া হয়েছিল, অথচ তালা সমবায় অফিসে তিনি বর্তমানে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সন্ন্যাসী মন্ডল বলেন, একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলাচ্ছে । তিনি কোন ঘুষ দূনীর্তির সাথে কখনই জড়িত নয় । তার বিরুদ্ধে হওয়া সকল সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি ।
তালা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সন্ন্যাসী মন্ডলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ও তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।