আমিনুর রহমান :সাতক্ষীরার তালায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনা আত্মহত্যা বলে প্রচার চালিয়েছে ঘাতক স্বামী ও তার সহযোগীরা। এ হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের মাতা রোজিনা খাতুন।
রোববার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে কলারোয়া রাজপুর গ্রামের গফুর সরদারের কন্যা রোজিনা খাতুনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ভাই আকবর আলী।
তিনি বলেন, আমার বড় কন্যা আশা আক্তার(১৯) এর সাথে তালা উপজেলার আলাদীপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে রিয়াদ খাঁ (২৩) এর সাথে অনুমান ২০২৫ সালের শেষের দিকে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে রিয়াদ খাঁ বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে আমার কন্যা উপর অমানুষিক নির্যাতন করতে থাকে। সে সময় আমার নগদ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এছাড়া একটি মোটরসাইকেল দাবি করে আসছিল। এ নিয়েই বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং রিয়াদ খাঁ, তার মাতা নাহার খাঁ, পিতা- আইয়ুব আলী খাঁ আমার কন্যা আশার উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে গত ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ৯ তারিখে যশোরে বসবাসরত চাচাতো ভাই আমাদের ফোন করে জানান আমার কন্যা আত্মহত্যা করেছে। জামাতার বাড়ি থেকে কেউ কোন খবর আমাদের দেয়নি। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে জানতে কন্যার লাশ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তখনই আমাদের সন্দেহ হলেও থানা পুলিশ এবং জেলা সমবায় কর্মকর্তা সোহরাবের কারনে তালা থানায় তড়িঘড়ি করে একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়। যার কিছুই আমার বুঝতে পারেনি। অথচ আসামীরা হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে যায়। তারপরও থানার এস আই জিয়াদ জোরপূর্বক আমার স্বামীর কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
ঘটনার পরের দিন আমরা নানাভাবে খবর নিয়ে জানতে পারি রিয়াদ খাঁর অন্য মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সেটা আমার কন্যা জানতে পারে আপত্তি করার কারনেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা বুঝতে পারার পর প্রমান জোগাড় করা জন্য সমবায় কর্মকর্তা সোহরবারে সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে আমার ভাই আকবর আলী। কথাবার্তার একপর্যায়ে সোহরাব বলেন “রিয়াদ ভালো ছেলে না, তার অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে এবং রিয়াদের মাতা নাহারও সুবিধাজনক না, সে বিদেশে থাকত, সেখান থেকে এসে বড় বড় সন্তান রেখে অন্যত্র বিবাহও করেছে”। এখান থেকেই স্পষ্ট যে রিয়াদ তার অবৈধ প্রেমের কারনেই আমার কন্যাকে হত্যা করেছে। এরপর এবিষয়ে থানা হত্যা মামলা করতে গেলে থানা ওসি শহিদুল ইসলাম হাওলাদার মামলা না দিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে বলে আদালতে যাও। উপায়ন্ত হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত ইউডি মামলার কপি চেয়ে থানাকে নির্দেশ দিলেও থানা দীর্ঘ ৫মাস ধরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেন। এরপর আদালত মামলাটির তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের উপর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা ধারনা করছি সোহরাব থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে আমার কন্যা হত্যার বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালাচ্ছে। ডিবিপুলিশকেও সে ম্যানেজ করতে পারে। তিনি একজন সন্তান হারা মা হিসেবে সন্তানের হত্যার প্রকৃত ঘটনা উৎঘটন এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।