নজরুল ইসলাম, তালা থেকে: সাতক্ষীরার তালায় মাছ চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মণ্ডল (৫২) কে গাছে বেঁধে রাতভর মধ্যযুগীয় বর্বর নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের পরও এখনো অধরা রয়েছেন আসামিরা।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিহতের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল বাদী হয়ে তালা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর ১৩, তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২৬। মামলায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলাসহ ৬-৭ জনের নামে অজ্ঞাত নামা আসামী করা হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্ষিতিশ মণ্ডল তালা সদর ইউনিয়নের জেয়ালা গ্রামের মৃত মনীন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে। তিনি নিজেও মাছের ঘেরের ব্যবসা করতেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জেয়ালা উত্তরখোলা বিলের বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মণ্ডলকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে জেয়ালা শ্মশানঘাট এলাকায় নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ভোর পর্যন্ত তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত ক্ষিতিশকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, ডিবি ও র্যাবের অভিযান চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আক্তারুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতের চাচাতো ভাই পার্থ মণ্ডল বলেন, ক্ষিতিশের নিজেরও চার বিঘা জমিতে মাছের ঘের রয়েছে। মাছ চুরির সন্দেহে একজন মানুষকে রাতভর গাছে বেঁধে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চান।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) মহসিন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাছ চুরির অপবাদে ক্ষিতিশ মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।