নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা তালা উপজেলার বারাত মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জন্য শিক্ষক নন—এমন তিন ব্যক্তিকে ‘শিক্ষক’ পরিচয়ে অন্তর্ভুক্ত করে প্যানেল পাঠানোর ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাশের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্যানেলে থাকা ব্যক্তিদের প্রকৃত পেশা ও কর্মস্থল যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের একজন আজীবন দাতা সদস্য ও এলাকার সচেতন মহলের।
বিদ্যালয়ের আজীব দাতা সদস্য আ আ ম একরামুল হক (আসাদ) এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে, বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে তিনজনের নামের একটি প্যানেল তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরার মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। ওই প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কর্মসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে।
প্যানেলে থাকা ১ম ব্যক্তি, বুলবুল হোসাইনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি পূর্বে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, ঢাকায় সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কোনো বিদ্যালয় বা কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত নন এবং প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা নন।
দ্বিতীয় ব্যক্তি মো. জাহাঙ্গীর আলম সম্পর্কে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনিও বর্তমানে কোনো স্বীকৃত বিদ্যালয়, কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত নন। অথচ তাঁর নামের সঙ্গে শিক্ষক পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্যানেলে থাকা জিএম আল মামুন সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ঢাকা তিতুমীর কলেজের একজন শিক্ষার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,বিদ্যালয় সংলগ্ন কুমিরা ও ইসলামকাটি ইউনিয়নে যোগ্য সমাজসেবক ও বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের খলিলনগর ইউনিয়ন থেকে জিএম আল মামুন নামে এক ব্যক্তিকে ‘বিদ্যোৎসাহী’ সদস্য হিসেবে মনোনীত করে সভাপতি প্যানেলে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এলাকার পরিবর্তে দূরের ইউনিয়ন থেকে একজনকে এনে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার এই উদ্যোগের পেছনে প্রধান শিক্ষকের একক প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্য রয়েছে। এতে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কোনো বিদ্যালয় বা কলেজে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত নন।
তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে বর্তমানে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নামের পাশে ‘শিক্ষক’ পরিচয় সংযুক্ত করে আহ্বায়ক কমিটির মনোনয়নের জন্য প্যানেল প্রস্তুত ও প্রেরণ করা হয়ে থাকলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং কমিটি গঠন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সঠিক তথ্য গোপন করে, ভুল তথ্য দিয়ে প্যানেলটি প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাশের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের দপ্তর হয়ে শিক্ষা বোর্ডে পৌঁছেছে। ফলে প্যানেলে ব্যবহৃত পরিচয় ও তথ্যের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
প্যানেলে থাকা তিন ব্যক্তির প্রকৃত পেশা ও কর্মস্থল যাচাই, তাঁদের নামের পাশে ‘শিক্ষক’ পরিচয় কীভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে তা তদন্ত, প্যানেল প্রেরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও প্রত্যয়ন যাচাই এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম দাশ প্রত্যেকের নামের পাশে শিক্ষক ট্যাগ লাগিয়ে ইউএনও, ডিসি অফিসের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের প্রেরণ করেছেন যা দণ্ডনীয় অপরাধের শামিল।
বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা পেশা সম্পর্কে ভুল তথ্য ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত প্যানেলের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল৷