শাহীন বিশ্বাস : তালা উপজেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ এর ফলাফলে ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ জনের কম শিক্ষার্থী পাস করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ১ থেকে ৩ জন।জালালপুর ইউনিয়ন আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। নোয়াকাটি জে.এম দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ২ জন। মাগুরাডাংগা এমডিএস আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসায় ১০ জনের মধ্যে পাস করেছে ১ জন এবং সরুলিয়া কিয়ামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১ জন।কলাগাছি সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩ জন। খাতুনে জান্নাত মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ২০ জনের মধ্যে ২ জন, পিএস আদর্শ মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ জনের মধ্যে ২ জন এবং দেওয়ানিপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় ১২ জনের মধ্যে ২ জন পাস করেছে।এছাড়া ৪ জন করে পাস করেছে উপজেলার ৮টি প্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঘোষনগর গংগারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কবি সিকান্দার আবু জাফর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধানদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তালা পাবলিক হাইস্কুল, পার মাদরা পল্লী শ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ শাহজাতপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ধলবাড়িয়া এনকে মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও হাজরাকাটি মোহাম্মাদিয়া (সঃ) দাখিল মাদ্রাসা।৫ জন করে পাস করেছে দাদপুর মেলেকবাড়ী দারুস সালাম আলিম মাদ্রাসা ও পাটকেলঘাটা টেকনিক্যাল কলেজ ভোকেশনাল। ৬ জন করে পাস করেছে সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আম্রকানন দাখিল মাদ্রাসা ও কুমিরা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোকেশনাল।
৭ জন করে পাস করেছে ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খলিলনগর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, পল্লী স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সৈয়দ দিদার বখত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আগোলঝাড়া দাখিল মাদ্রাসা, ইসলাম সরদার নূরুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসা, জেএনএ দাখিল মাদ্রাসা, তালা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও ফলেয়া চাঁদকাটি অগ্রণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।৮ জন করে পাস করেছে নাংলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাশিপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ৯ জন করে পাস করেছে এমকে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাগুরা পীর শাহ জয়মুদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা।সরকারি অর্থ ব্যয়, তারপরও কম পাস একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, শিক্ষা উপকরণ, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবছর সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতাও দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও ভালো ফলাফল নিশ্চিত করাই শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে যদি মাত্র ১, ২ বা ৩ জন পাস করে, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।স্থানীয় অভিভাবকদের প্রশ্ন, সরকার প্রতিবছর শিক্ষকদের বেতন-ভাতাসহ শিক্ষা খাতে বিপুল টাকা খরচ করছে। এরপরও এসব প্রতিষ্ঠানে এত শিক্ষার্থী ফেল করছে কেন? শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করছেন কি না, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ে যথাযথভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে কি না—এসব বিষয় কি কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে?শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের তদারকি—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের মতে, শুধু শিক্ষার্থীদের ফেল করার কারণ খুঁজলে হবে না। যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার খুবই কম, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মানও দেখা দরকার।এ বিষয়ে তালা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতিয়ার রহমান জানান, কর্তৃপক্ষ যে সমস্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় পাশের হার কম তাদেরকে ইতিমধ্য নোটিশ প্রদান করেছে, সেই সাথে ওই সমস্ত স্কুল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস ও শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য এবং শিক্ষকদের আরো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হয়েছে।