সাতনদী ডেস্ক : বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ এবং অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, অধ্যাপক আফরোজা শেলী ও অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একইভাবে, গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহের চারুকলা বিভাগের
সহকারী অধ্যাপক কল্যাণাংশু নাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনাকেও আমরা উদ্বেগজনক বলে মনে করি। আমরা বিশ্বাস করি, অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের শাস্তি প্রদান আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচারের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
গত ২০ মাস ধরে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মতভিন্নতা ও বিভাজনের আবহে শিক্ষক সমাজের বিরুদ্ধে বহিষ্কার, সাময়িক বরখাস্ত, একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাস্তি, বয়কট এবং মবের সন্ত্রাস সৃষ্টি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে শতশত শিক্ষকদের শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা শাস্তির প্রস্তাবসংবলিত তালিকা প্রকাশ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।
বিশ্ববিদ্যালয় কখনো প্রতিহিংসা বা ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্র হতে পারে না। এর শক্তি নিহিত মুক্তচিন্তা, বহুত্ববাদ, যুক্তিবাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতকে সহনশীলতার সঙ্গে ধারণ করার সংস্কৃতিতে। ভীতি, অনিরাপত্তা ও শাস্তির সংস্কৃতি কোনোভাবেই জ্ঞানচর্চা, গবেষণা বা মানসম্মত উচ্চশিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে না।
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ সংশ্লিষ্ট সব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়, আইন, বিধি ও ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করে শিক্ষকদের সাংবিধানিক ও পেশাগত অধিকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও একাডেমিক স্বাধীনতা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করুন। অসাংবিধানিক সকল সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন। দেশের শিক্ষাঙ্গনে ভয়মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও জ্ঞানচর্চাবান্ধব পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানাই।
একই সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীর ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং হামলাকারীকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।