নিজস্ব প্রতিবেদক: শত শত কোটি টাকা নিয়ে সমবায় সমিতি লাপাত্ত হলেও এ বিষয়ে তালা উপজেলা সমবায় মোঃ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।এমনকি তার দপ্তরে অভিযোগ করতে গেলে বিভিন্নভাবে হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন তারা ।
অভিযোগ উঠেছে, তালা উপজেলার উপশহরে নিবন্ধিত তালা বাজার সঞ্চয় ও ঋনদান এবং আদর্শ বহুমুখী প্রাথমিক সমিতি। সমিতির প্রপাইটার একাই সৈয়দ বাচ্চু হোসেন। সৈয়দ বাচ্চু হোসেন গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ইতিমধ্যে পাড়ি জমিয়েছেন সুদুর মালেশিয়ায়। সমিতির সদস্যরা একাধিকবার অভিযোগ করলেও এক রহস্যময় ভূমিকায় দেখা গেছে উপজেলা সমবায় অফিসার রফিকুল ইসলামকে।সদস্যদের অভিযোগ প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা না নিয়ে রফিকুল ইসলাম সৈয়দ বাচ্চু হোসনকে তালা উপজেলায় চলমান প্রকল্পের মধ্যে অর্ন্তভূক্ত করে তাকে দিয়েছেন দুই লক্ষ টাকার ঋন।
ভূক্তভোগী সদস্যরা জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ করলে উল্টো রফিকুল ইসলাম তাকে ধমক দিয়ে বলেছেন, আপনি টাকা দিয়েছেন তার প্রমান কি? ভূক্তভোগী ওই সদস্য বলেন যে কোটি কোটি টাকা আত্মস্যাৎ করেও সৈয়দ বাচ্চু হোসেন অধিকাংশ সময় উপজেলা সমবায় অফিসারের সাথে সময় কাটাতেন।
পাটকেলঘাটা শ্রমজীবি সমিতির নির্বাহী প্রধান শেখ রহমত আলীর দীর্ঘ্যদিন ধরে গরিব মানুষের তিলে তিলে জমানো কোটি কোটি টাকা ফেরত না দিয়ে ক্ষমতা আর প্রভাব অপব্যবহার করে বিলাস বহুল জীবন যাপন করছেন। সমিতি যখন দেওলিয়া হয়ে সদস্যদের ক্ষোভে ভাসছিলো তখন সমবায় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম একক সিদ্ধান্তে সমিতির সাধারন সদস্যদের নিয়ে বিশেষ সভা আহবান করেন। সভায় তিনি এবং আরেকজন সহকারী অফিসার কে সাথে নিয়ে শ্রমজীবি সমিতির টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকারাবদ্ধ হন। সাম্প্রতি দেখা গেছে, পাটকেলঘাটা শ্রমজীবি সমিতির তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি এ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমবায় আইনের ১৮ এর ৫ ধারায় বলা আছে নির্বাচিত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনে ব্যর্থ হলে তিন বছরের পর উক্ত কমিটি বিলুপ্ত হবে এবং সমিতির নিবন্ধক নির্বাচন ও সমিতির সাধারন কার্য পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি এ্যাডহক কমিটি তৈরী করবেন।কিন্তু পরিতাপের বিষয় সমিতির নির্বাহী শেখ রহমত আলীর প্ররোচনায় উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম অনেক টাকার বিনিময়ে বিলুপ্ত কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে জেলা সমবায় অফিসার, সাতক্ষীরা এর মাধ্যমে তিন সদস্যের একটি এ্যডহক কমিটি তৈরী করেছেন যা আইনত অবৈধ।
লোক মুখে জানা গেছে , সমিতির নির্বাহী শেখ রহমত আলী উক্ত উপজেলা সমবায় অফিসারকে হাত করানোর জন্য ৩,০০,০০০/- তিন লক্ষ টাকা মওকূপ করিয়ে নিয়েছেন।
এরমধ্যে বড় কাশিপুর সমিতির জনাব জালাল হোসেন ইতিমধ্যে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে, শেখ সিপাতূল্ল্যাহ পাটকেলঘাটা মানব কল্যান সমিতির নামে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা এবং যথারিতী বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।এছাড়া পাটকেলঘাটা কপোতাক্ষ কৃষি ও মৎস্য সমিতি গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আমানত নিয়ে অসহায়ের মত দিন যাপন করছেন।
কপোতাক্ষ সমিতি মাঠে পাওনা ঋন আদায়ের জন্য উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলামকে বার বার অনুরোধ করলেও তিনি আমলে নেননি।
জালালপুর ইউনিয়নের আইডিয়াল শ্রমজীবি সমবায় সমিতির নির্বাহী প্রধান ইন্দ্রজিৎ দাশ বাপী গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্ত হয়ে গেছেন। এসব বিষয়ে উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম কোন ব্যবস্থা নেননি তার কারন তিনি সকল সমিতি হতে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ইসলাম তালা উপজেলায় চাকরি করছেন দীর্ঘ ৬ বছরের উর্দ্ধে।সরকারী নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পর পর কর্মকর্তাদের বদলির নিয়ম থাকলেও বিপুল পরিমান অর্থ দিয়ে তিনি ম্যানেজ করেছেন উপরের মহলকে।
নাম না জানানোর শর্তে সমবায় সমিতির একাধিক গ্রাহক জানান, নুতন কোন প্রতিষ্ঠান সমবায় সমিতি নিবন্ধন করতে চাইলে তাদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয়। উপজেলা সমবায় অফিসারের ডান হাত হিসাবে কাজ করেন সহকারী অফিসার সন্ন্যাসী কুমার মন্ডল। সন্ন্যাসী কুমার মন্ডল অফিসে কেউ কিছু সাহায্যের জন্যে গেলে তাদের সাথে চরম দূর্ব্যবহার করেন অনেক ক্ষেত্রে অনেককেই অফিস থেকে বের করে দেন।
সন্ন্যাসী কুমারের বিরুদ্ধে একাধীক নারী ঘটিত কেলেংকারীর বিষয়ে উপজেলা সমাবায় অফিসারকে অবহিত করলে তিনি বলেন, প্রতি প্রত্যেকের একটি ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে তবে অফিসে খারাপ আচরনের কারনে তিনি সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে মো. রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি মিটিং এ আছি এ বিষয়ে পরে কথা হবে বলে মুঠোফোনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেণ